‘নতুন রাজনৈতিক দল আল জামাআহ’

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০১৩, ২৩:২২
জামায়াতে ইসলামীকে সরকার কোন কারণে নিষিদ্ধ করলে ‘আল জামাআহ’ নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়েছিল জঙ্গিদের একটি গ্রুপ। আর এ কারণে জামায়াতের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে তারা যোগাযোগও করেছিল। আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের শীর্ষ নেতা মুফতি জসিমুদ্দিন রাহমানী ও হিযবুত তাহরীর শীর্ষ নেতা ডা. ফরিদ উদ্দিন এই সংগঠনের কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছিলেন। তৈরি হয়েছিল জামায়াতের আদর্শে গড়া গঠনতন্ত্রও। কিন্তু প্রস্তুতি পর্বেই গত মে মাসে জাল টাকার ঘটনায় গ্রেফতার হন ডা. ফরিদ উদ্দিন। এরপরও মুফতি রাহমানী দলের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চেষ্টা করছিলেন। শেষ পর্যন্ত গত মাসে সহযোগীদের নিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন মুফতি রাহমানী। তার আস্তানা থেকে ওই গঠনতন্ত্রও উদ্ধার করেছে গোয়েন্দারা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, মুফতি রাহমানীর আস্তানা থেকে ‘আল জামাআহ’ নামে একটি রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, তবে ওই রাজনৈতিক দলটি নিয়ে শেষ পর্যন্ত তারা মাঠে নামতে পারেনি। তার আগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে ডা. ফরিদ উদ্দিন ও মুফতি রাহমানী। তবে এই রাজনৈতিক দলটি গঠনের প্রক্রিয়া কতদূর এগিয়েছিল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাদের গঠনতন্ত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এটি জামায়াতের গঠনতন্ত্রের আদলেই তৈরি। জিজ্ঞাসাবাদে আনসারুল্লাহ’র একজন সদস্য স্বীকার করেছেন, এই রাজনৈতিক দলের জন্য তারা জামায়াতের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। জামায়াত নিষিদ্ধ হলেই এই দল নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি ছিল তাদের। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। গ্রেফতারকৃতরা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের এসব তথ্য দিয়েছে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতেই মুফতি রাহমানীর মোহাম্মদপুরের বছিলার আস্তানায় অভিযান চালায় গোয়েন্দারা। সেখানে পাওয়া যায় তাদের নতুন দলের গঠনতন্ত্র। একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ওই গঠনতন্ত্রটি জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের আদলে তৈরি করা। এমনভাবে তারা এটি তৈরি করেছে যাতে কোনভাবেই বোঝা না যায় এর পেছনে হিযবুত তাহরীর বা আনসারুল্লাহ’র মতো জঙ্গি সংগঠন রয়েছে। মুফতি জসিমুদ্দিন রাহমানী পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে, তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য আত্মগোপনে থেকে যেমন কাজ করতে হবে, তেমনি রাজনৈতিক দল নিয়েও মাঠে নামতে হবে। আল্লাহ’র আইন বাস্তবায়নের জন্য নতুন রাজনৈতিক দল খুব কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। সঙ্গে জামায়াতের কিছু নেতা যোগ দিলে তাদের উদ্দেশ্য পুরোপুরি সফল হবে। গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে আনসারুল্লা’র সদস্যরা জানিয়েছে, সারা দেশে তারা কর্মী-সমর্থকদের সংগঠিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের ব্যাপারেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল। প্রয়োজন হলে তাত্ক্ষণিকভাবে অফিস তৈরি করে সাধারণ একজন রাজনৈতিক কর্মীর মতো আচরণ করতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কারণ রাজনৈতিক দল নিয়ে মাঠে নামতে হলে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন নিতে হয়। সে জন্য নতুন রাজনৈতিক দলের জন্য কার্যালয়সহ নানা ধরনের তত্পরতা থাকতে হয়। তবে প্রাথমিকভাবে যদি জামায়াতের কাউকে নাও পাওয়া যায় তাহলে নিজেদের যে শক্তি আছে তা নিয়েই মাঠে নামতে চেয়েছিল তারা। জামায়াত নিষিদ্ধের পর তাদের সমর্থকরা নতুন ইসলামী এই সংগঠনকে সহায়তা করা ছাড়াও নতুন দলে যোগ দেবে বলে বিশ্বাস ছিল জঙ্গি নেতাদের। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, হিযবুত তাহরীর নিষিদ্ধ হওয়ার পর এই সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে শীর্ষ নেতারা নিজেরা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এর মধ্যে গোপনে কাজ শুরু করে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যরা। পরে এই দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতারা একাধিকবার বৈঠক করে নতুন করণীয় ঠিক করে। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয় কোন কারণে জামায়াতকে সরকার নিষিদ্ধ করলে রাজনৈতিক দল নিয়ে মাঠে নামবে তারা। দুই দলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতার সমন্বয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। ওই কমিটি জামায়াতের গঠনতন্ত্র বিশ্লেষণ করে একটি গঠনতন্ত্র তৈরি করে। সেই গঠনতন্ত্রটি এখন গোয়েন্দাদের হাতে।