এ্যাঞ্জেলিনা ডায়না পোদ্দার। ২০১০ সালে ইডেন মহিলা কলেজ থেকে কীটতত্ত্বে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে ঐ বছরই নিজ কলেজে ‘কলেজ সেমিনার অ্যাসিস্ট্যান্ট’ পথে যোগদান করেন। পারদর্শিতার সাথে একবছর কাজ করার পার ট্রেনি অফিসার হিসেবে যোগ দেন এনজিও ‘কারিতাস বাংলাদেশ’-এ। কর্মদক্ষতা, কার্যে মনোনিবেশতা, কাজের প্রতি দায়িত্বশীলতা, পেশার প্রতি সম্মানবোধ্যতা প্রতিফল দিয়েছে অ্যাঞ্জেলিনা ডায়নাকে। নিজের যোগ্যতায়, নিষ্ঠায়, পরিশ্রমে তিনি উত্তরণ ঘটিয়েছেন নিজের। আরো অনেক ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ থাকলেও ‘কারিতাস বাংলাদেশ’-এর কাজের প্রতি ভালোলাগায় ২০১০ থেকে অদ্যাবধি তিনি কর্মরত আছেন এনজিও ‘কারিতাস বাংলাশে’-এ। এখন কাজ করছেন সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে।
প্রতিযোগিতার এ সময়ে প্রতি মুহূর্তেই এ্যাঞ্জেলিনা ডায়না প্রতিযোগিতা করছেন নিজের সাথে, নিজের কাজের সাথে। প্রতিদিনই নিজের কাজের দক্ষতাকে বাড়াতে কোনো না কোনোভাবে উত্তরণ ঘটান নিজের মেধার, ধৈর্যের, বিচক্ষণতার। কর্তব্যে সতত-সচেতন, কাজে নিষ্ঠাবান, পরিশ্রমী এ্যাঞ্জেলিনা অফিস করেন অফিসিয়াল নিয়মেই ৮.৩০-৫টা। তবে কাজের প্রয়োজনে এ গণ্ডি ভাঙতে দ্বিধা না করে সাবলীলভাবেই কখনো কখনো কঠোর পরিশ্রম বা অফিসিয়াল সময়ের অধিক সময় কাজ করতে এতটুকু দ্বিমত করেন না নিজের সাথে। অতিরিক্ত কাজের কথায় এ্যাঞ্জেলিনা ডায়না কনফিডেন্টলি বলেন, ‘প্রোফেশনাল জীবনে ঘড়ি ধরা সময় বলে কিছু নেই। কাজকেই প্রাধান্য দেয়া উচিত সবার আগে। এ ক্ষেত্রে বরং যত কাজ বা দায়িত্ব নেয়া যায় তা নিজের জন্যই ভালো। কাজের ক্ষেত্রে ঘড়ি ধরা সময় মুখ্য নয়, কাজই মুখ্য।’
চাকরি জীবনে প্রবেশের আগে পড়াশোনা অবস্থায় এ্যাঞ্জেলিনা ডায়না চাকরির জন্য যেমন পড়াশোনা করছেন নিয়মিত তেমনি এখনো পড়াশোনার মধ্যেই পার করেন দিনের কিছুটা হলেও সময়। তিনি বলেন, একাডেমিক পড়াশোনার সময় সবমিলিয়ে দিনে অন্তত ১২-১৪ ঘন্টা কাটত পড়াশোনার পিছনে। তারপর সময় পেলে কবিতা, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে চলত নিয়মিত চর্চা। আর চাকরি হবার পর এখনও এসবের মধ্যদিয়েই চলতে হয়। এখনো দিনে ২/৩ ঘন্টা নিয়মিত পড়াশোনা করতে হয়। চাকরি হয়ে যাওয়া মানেই সবটা শেষ হয়ে যাওয়া এমনটা ভাবা উচিত নয়। এখানে ঢোকার পরই আসল দায়িত্ব শুরু হয়। সেই অনুযায়ী প্রত্যেককে কাজ করতে হয়। এখানে পড়াশোনাটা হয়তো একটু ভিন্ন রকমের কিন্তু একটা পড়াশোনা করার ভিতর দিয়েই এগিয়ে যেতে হয়। যে যত পড়াশোনা করবে তার জন্য প্রোফেশনাল পথচলা ততই ফলদায়ক হবে।
সরকারি চাকরির প্রসঙ্গ আসলে ডায়না বলেন, ‘কোনো কাজই ছোট নয়। সব কাজের গ্রহণযোগ্যতা যেমন সমান তেমনি সব পরিসরের কাজেই নিজেকে তুলে ধরার সুযোগ থাকে বিস্তর কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা অবস্থাই বেসরকারি চাকরির প্রতি আমার একটা বিশেষ টান ছিল। বিশেষভাবে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান বা এনজিও আকারের প্রতিষ্ঠানের প্রতি।’ বিশেষ টান কেনো? ‘এ্যাঞ্জেলিনা মনে করেন, ‘সময় অনেক এগিয়েছে। এখন আর ছেলে বা মেয়ে বলে কোনো ভিন্ন কথা নেই কি ঘরে কি বাইরে কিংবা কর্মপরিসরে। সবাই যেমন স্বাধীন তেমনি সবাই সমান। ছেলে বা মেয়ে সে যেই হোক কাজের পরিবেশ তাকে মানিয়ে নিতে হয় অতঃপর সে পরিবেশে নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে হয়। কাজ ও কাজের দক্ষতাই এগিয়ে নেয় যে কাউকে। আর অনুকূল বা প্রতিকূল সে তো সময়ের সে াত! আমরাই অনুকূলতা তৈরি করি আবার আমরাই প্রতিকূলতা তৈরি করি। কখন কি করতে হবে তা আমাদেরই ঠিক করতে হবে এবং সে অনুযায়ী নিজের বুদ্ধি-বিবেচনা কাজে লাগিয়ে কাজ করতে হবে,করতে হয়। নতুনদের প্রতি এ্যাঞ্জেলিনার কথা, ‘সবার আগে নিজের সাথে বোঝাপড়া করতে হবে যে সে কি করতে বা কি হতে চায় অথবা নির্দিষ্ট একটা সময়ে সে নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চায়। বিশেষ করে প্রত্যেককে ছা্ত্র অবস্থাই ঠিক করতে হবে সে ভবিষ্যতে কি করবে। সে মাফিক তাকে একটু একটু করে প্রস্তুতি নিতে হবে। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির জন্যও প্রস্তুতি নেয়া ভালো। তাতে সময় পাওয়া যায় অধিক। যে বিসিএস দিতে চায় তাকে বিসিএস-এর জন্য, আর যে করপোরেট লেভেলে আসতে চায় তাকে সে মাফিক মনোপ্রস্তুতি নিতে হবে অথবা যে ব্যাংকিং সেক্টরে কাজ করতে আগ্রহী তাকে এ বিষয়ে সমৃদ্ধ হতে হবে। পথ ছেড়ে বিপথের পথিক কখনো পথ পায় না— তা নিশ্চিত!
