র্যান্ডা আয়ুবি
প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও, রুবিকন হোল্ডিংস
র্যান্ডা আয়ূবি ১৯৯৪ সালে যখন জর্ডান ট্রেইনিং টেকনোলজি গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন তখন প্রতিষ্ঠানের মূলধন ছিল মাত্র মাত্র এক লাখ চল্লিশ হাজার ডলার। এরপর বন্ধু-বান্ধব আর পরিবারের কাছের মানুষদের বহু পীড়াপিড়ি করলেন তার প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করতে। তারা র্যান্ডার আহ্বানে সাড়া দেয়ায় ঐ প্রতিষ্ঠানই ২০০৪ সালে রূপ নেয় রুবিকন হোল্ডিংস এ, যা কিনা এই মুহুর্তে বিশ্বের অন্যতম বড় থ্রি ডি অ্যানিমেশন এবং গ্রাফিক্স ফার্ম।
একটি ক্ষুদ্র ঋনদান প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা করা রুবি কনর্যান্ডার দক্ষ হাত ধরে এখন পরিনত হয়েছে অ্যানিমেশন পাওয়ার হাউজে। আম্মানে নিজেদের প্রধান শাখার পাশাপাশি রুবিকনের শাখা অফিস আছে বিশ্বের আরো চারটি শহরে। দারুন জনপ্রিয় শিশুদের কার্টুন বেন এন্ড ইজিও এসেছে রুবিকনের হাত ধরেই।
নিজের প্রতিষ্ঠানকে কোথায় দেখতে চান এমন প্রশ্নের জবাবে র্যান্ডার উত্তর, ‘যখন মানুষ বইপত্রে আরব রেনেসা নিয়ে কথা বলবে আমি চাই তখন সেখানে তারা রুবিকনের কথাও পড়ুক।’
স্বপ্ন যার এমন বড় তাকে আটকানোর সাধ্য কার! র্যান্ডার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলাফল হিসেবে দি ইকোনমিস্ট ২০০৭ সালে তাকে মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ উদ্যোক্তাদের তালিকায় ১১তম স্থানে রাখে। আর ২০১০ সালে তিনি ঘোষিত হন ‘এন্টারপ্রেনার অফ দ্য ইয়ার’ হিসেবে।
===
হায়াতসিন্দি
ইমার্জিং এক্সপোলোরার
মুসলমানদের পবিত্র নগরী মক্কায় ১৯৬৭’র শেষ দিকে জন্ম নেন সিন্দি। আরবীয় সমাজের প্রথাগত নিয়মকানুন পেছনে ঠেলে সিন্দি ১৯৯১ সালে উচ্চ শিক্ষার জন্য চলে যান ইংল্যান্ডে। ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পারস্য উপসাগরীয় এলাকার প্রথম নারী হিসেবে বায়োটেকনোলজি থেকে পিএইচডি ডিগ্রী নেন তিনি।
শিক্ষা জীবন সমাপ্ত হবার পরে শিক্ষকতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন সিন্দি। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে শুরু হয় তার কর্মজীবন। এর পাশাপাশি চলতে থাকে তার গবেষনা কর্মও। এরই ফল স্বরূপ সিন্দি স্থান করে নেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট অফিসের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রামান্য চিত্রে।
এরই মধ্যে সিন্দি প্রতিষ্ঠা করেন যুক্তরাজ্য ভিক্তিক প্রতিষ্ঠান সোনোপটিক্স টেকনোলজি। এছাড়াও ন্যানো টেরাইন কর্পোরেটেডের সহসভাপতি এবং পরিচালকের দায়িত্বও পালন করছেন তিনি। এসব উদ্যোগের স্বীকৃতি স্বরূপ নিজ দেশে ২০১০ সালে তিনি লাভ করেন মক্কা আরমুকাররা মা পুরস্কার। এরপরের বছর ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি তাকে ঘোষনা করে ‘ইমার্জিং এক্সপোলোরার’ হিসেবে। আর গত বছর নিউজ উইকের ‘১৫০ ওমেন হু শেক দ্য ওয়ার্ল্ড’ তালিকায় স্থান পায় তার নাম। তবে সিন্দির সব চেয়ে বড় স্বীকৃতিটা আসে এবছরের শুরুতে। সৌদি আরবের ইতিহাসে প্রথম বারের মতো আরো কয়েকজনের সাথে সিন্দি দেশটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
