শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদেরকে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা মার্জিন ঋণ দিয়ে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো বেশ চাপে পড়ে গেছে। বিনিয়োগকারীরাও পড়েছেন বিপাকে। এদিকে টাকা আটকে পড়ায় লেনদেনে তাদের অংশগ্রহণ খুব কমে গেছে। এ অবস্থায় মার্জিন ঋণের চাপ সামাল দিতে এম টু এম পদ্ধতি কাজে আসতে পারে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
ইতিমধ্যে আইডিএলসি এ পদ্ধতি ব্যবহার করে মার্জিন লোনের চাপ কমাতে শুরু করেছে। একাধিক মার্চেন্ট ব্যাংক অচিরেই তা অনুসরণ করতে পারে বলেও জানা গেছে। এছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংকের ঝুঁকি কমাতে তৈরি করা প্রতিবেদনেও এম টু এম পদ্ধতি অনুসরণ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
মার্জিন লোন সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী বিনিয়োগকারীর ইক্যুইটি-ঋণ অনুপাত (ইডি রেশিও) ৩০ শতাংশের উপরে রয়েছে। তাদের ইডি রেশিও ৩০ শতাংশের নিচে চলে আসলে ট্রিগার সেল (বাধ্যতামূলক সব শেয়ার বিক্রি) করতে হয়। কিন্তু এম টু এম পদ্ধতি হলো ট্রিগার সেল না করে নতুন করে টাকা জমা দেয়া কিংবা কিছু শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীকে ইডি রেশিও ঠিক রাখার সুযোগ দেয়া। অর্থাত্ যাদের ইডি রেশিও ৩০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে তাদেরকে ফোন করে বা এসএমএস করে জানানো হয় যে, কত টাকা জমা দেয়া হলে কিংবা কি পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করা হলে ইডি রেশিও পুনরায় ৩০ শতাংশে চলে আসবে। যদি বিনিয়োগকারী ওই টাকা জমা না দেয় কিংবা শেয়ার বিক্রি না করে তবে মার্চেন্ট ব্যাংক নিজেই সমপরিমাণ শেয়ার বিক্রি করে দিবে। এ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।
সূত্রে জানা গেছে, যাদের ইডি রেশিও ৩০ শতাংশের নিচেই রয়েছে তাদেরকে জানানো হয় যে, ইডি রেশিও যেন তার বর্তমান অবস্থার চেয়ে নিচে না নামে। যদি নামতে থাকে তবে পূর্বের অবস্থানে ফিরে যাওয়ার জন্য যে পরিমাণ টাকা জমা দিতে হবে কিংবা শেয়ার বিক্রি করতে হবে তা বিনিয়োগকারীকে জানানো হয়। যদি টাকা জমা না দেয়া হয় তবে মার্চেন্ট ব্যাংক নিজেই সমপরিমাণ শেয়ার বিক্রি করে ইডি রেশিও পূর্বের অবস্থানে নিয়ে যাবে।
এম টু এম পদ্ধতির কার্যকারিতা সম্পর্কে জানতে চাইলে আইডিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মুনিরুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, এতে করে মার্চেন্ট ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীদের কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্ভব হবে। পাশাপাশি মার্জিন ঋণের দায়বদ্ধতা সম্পর্কে বিনিয়োগকারীরাও সচেতন হবে। তিনি আরও বলেন, এম টু এম-এর ফলে ইডি রেশিও ঋণাত্মক হওয়ার মতো ঘটনা পুনরায় ঘটবে না। এদিকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এ নিয়ে কিছুটা ক্ষোভ থাকলেও আখেরে তাদের জন্য এ পদ্ধতি ভালো হবে বলেই মনে করেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ইডি রেশিও ৩০ শতাংশের নিচে চলে আসলে মার্চেন্ট ব্যাংক তার সব শেয়ার বিক্রি করে দেয়ার অধিকার রাখে। এরপরও তারা সব শেয়ার বিক্রি না করে ইডি রেশিও পূরণ করার সুযোগ দেয়া ইতিবাচক। ফলে বিনিয়োগকারীদের ঋণের দায়বদ্ধতা কমাতে এ পদ্ধতি কাজে আসবে। তাছাড়া এর মাধ্যমে বাজারে বড় ধরনের সেল প্রেসারও তৈরি হবে না, কিন্তু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্ভব হবে।
