বিত্ত তাদের সুখী করেনি

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:২৮
দোরিস ডিউকের পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে একদা তামাক শিল্পের নিয়ন্ত্রণকারী ছিলেন দোরিস ডিউক। তিনিই ডিউক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। প্রতি বছর তিনি বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানকে কোটি কোটি ডলার দান করতেন। কিন্তু তিনি মানুষ করতে পারেননি তার উত্তরাধিকারীকে। তার উত্তরাধিকারী ছিলেন তার ভাতিজা ওয়াকার ইনম্যান। তিনি এবং তার স্ত্রী দারলি ইনম্যান ছিলেন মাদকাসক্ত। প্রতিদিন তিনি তার ছেলে-মেয়েদের উপর পাশবিক নির্যাতন করতেন। ঘরের মধ্যে কক্ষে আটকে রাখতেন। কখনো তাদের গরম পানিতে চুবাতেন। ক্রিস্টিনা ক্রফোর্ড এক বছরের কম বয়সী ক্রিস্টিনা ক্রফোর্ডকে দত্তক নেন বিখ্যাত হলিউড তারকা জন ক্রফোর্ড। এর আগেও তিনি তিনটি সন্তান দত্তক নেন। বিলাসিতার মধ্যেই মানুষ হয়েছেন ক্রিস্টিনা। তার মায়ের মৃত্যুর পর তিনি ‘মাম্মি ডিয়ারেস্ট’ নামে একটি স্মৃতিকথা লেখেন। যাতে তিনি জানান, তার মা বেঁচে থাকতে তিনি শান্তি পাননি। প্রতিনিয়তই তার অ্যালকোহলে আসক্ত মা তাকে মানসিক এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। পরিবারে অশান্তির সীমা ছিল না। তাদের মারধর করে চিত্কার করতেন জন ক্রফোর্ড। আর মায়ের মাদকাসক্তির সুযোগে তার ধন সম্পদের বিপুল অংশ হাতিয়ে নেয় সুযোগ সন্ধানীরা। মানবতাবাদী ব্রুক অ্যাস্টর পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে এক সময় অভিজাত পরিবারগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিলেন মানবতাবাদী নারী ব্রুক অ্যাস্টর। ব্রুক দুইবার বিয়ে করেন। তার প্রথম স্বামী ছিলেন নিউ জার্সির বিত্তশালী রাজনীতিবিদ ড্রাইডেন কুসের। ব্রুক জানান, ওই ঘরে তার অ্যান্থনি নামে একটি সন্তান ছিল। তিনি জানিয়েছেন, তার স্বামী প্রচুর পরিমাণে মদ খেতেন। আর প্রতিনিয়তই তাকে এবং তার সন্তানকে নির্যাতন করতেন। গোটা বাড়িটাকে নরক মনে হতো। ব্রুক যখন ছয়মাসের অন্ত:স্বত্তা তখন তার স্বামী তাকে চড় দিয়ে চোয়াল ভেঙ্গে দেন। পরে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর তিনি বিয়ে করেন চার্লস এইচ মার্শালকে। মার্শাল তাদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করতেন। তাই তার সন্তান অ্যান্থনি তার নামের শেষে মার্শালের নাম ব্যবহার করেন। এমনকি ব্রুকও তার আত্মজীবনীতে বলেছেন, তিনি মানবতাবাদী হলেও একজন খারাপ মা ছিলেন। অ্যান্থনি তার মায়ের রেখে যাওয়া সম্পদ দেখাশোনা করতে পারেননি। আধুনিক পরিবারে মা কর্তৃক নির্যাতন ১৪ বছর বয়সী হলিউড তারকা এরিয়েল উইন্টার। আধুনিক পরিবারের সন্তান। বিখ্যাত অভিনেত্রী হবার সুবাদে বিপুল অর্থের মালিক হয় সে। কিন্তু পরিবারে ছিল চরম অশান্তি। তার মা তাকে নিত্যদিন মারধর করতেন। সবার সামনে গালাগাল করতেন। এমনকি তার বড় বোন শ্যানেল ওয়ার্কম্যান পরিবার ছেড়ে একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠানে চলে যেতে বাধ্য হন। জনসন অ্যান্ড জনসন ফরচ্যুনের উত্তরাধিকারীর মৃত্যু আবর্জনার মধ্যে! ক্যাসি জনসন। জনসন অ্যান্ড জনসন ফরচ্যুন পরিবারের সন্তান। অঢেল বিত্তের মালিক ছিলেন তিনি। কিন্তু অ্যালকোহলে ডুবে থাকতেন। ছিল বিকৃত যৌনাসক্তি। তিনি কখনো কোনো মানুষকে ভালবাসতে পারেননি। এমনকি তার বন্ধু একবার নাইট ক্লাবে তার চুলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। শেষ জীবনে তিনি একা হয়ে পড়েছিলেন। ত্রিশ বছর বয়সে একটি নোংরা বাংলোয় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। সম্পদের অভাব তার ছিল না। ছোটকাল থেকেই মায়ের দ্বারাও চরম নির্যাতিত হন তিনি। শৈশবেই মাদকাসক্ত লেই হরোউইটজ ফ্যাশন ডিজাইন প্রতিষ্ঠান টমি হিলফিগারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জোল হরোউইটজের সন্তান। ছোটকাল থেকেই বিলাসিতার মধ্যে বড় হয়েছেন। কিন্তু মা-বাবার স্নেহ কপালে জোটেনি। সবই ছিল তার। কিন্তু ভালবাসা পাননি । তার বাবা দীর্ঘসময় কাজ করতেন। ফলে বাসার বাইরে থাকতেন। ছুটি পেলে চলে যেতেন দীর্ঘ ভ্রমণে। একা বাড়িতে থাকতে হতো লেইকে। ফলে আট বছর বয়স থেকেই সিগারেট খাওয়া শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি কোকেন এবং হিরোইনের প্রতি আসক্ত হয়ে শোচনীয় এক জীবনে নিক্ষিপ্ত হন।