এখনো আত্মবিশ্বাস হারাতে নারাজ ক্রুইফ

বাংলাদেশ কাল ভারতের মোকাবেলা করবে

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৪৮
বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ শিরোপাধারী ভারত। নেপালের কাছে হেরে প্রথম ‘ফাইনালে’ নাকাল হবার পর এবারের বিপক্ষ আরো শক্তিধর। তারপরও আগামীকাল মঙ্গলবার তাদের মুখোমুখি হওয়ার আগে আত্মবিশ্বাস হারাতে নারাজ জাতীয় দলের কোচ লোডউইক ডি ক্রুইফ এখনও মনে করেন সুযোগ আছে সেমিফাইনালে ওঠার। কাঠমান্ডুর আকাশে গতকাল সূর্যের দেখা পাওয়া যায়নি। মেঘলা আকাশ। চারদিকে পাহাড় ঘেঁষে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘের ভেলা দেখতে কার না ভালো লাগে। বাংলাদেশ দলের হোটেলের উপরের তলাগুলো থেকে এমন মনোরম দৃশ্য দেখা গেলেও তাতে আগ্রহ নেই বাংলাদেশের ফুটবলারদের। হোটেল লবিতেও আনাগোনা নেই তাদের। অনুশীলন থেকে ফিরে খেলোয়াড়রা ডাইনিং হলে খেয়ে সোজা নিজ নিজ রুমে চলে গেলেন। আর লবিতে ব্যস্ত ছিলেন নেপালের খেলোয়াড়রা। নেপাল ফুটবল ফেডারেশনের গনেশ থাপা এসে নাস্তা সেরে তাদের মার্কিন কোচের সাথে আলোচনা সারলেন। হোটেলে বাংলাদেশ শিবিরে যেন ঘন কালো মেঘ বয়ে বেড়াচ্ছে। নেপালের সাথে হেরে সব কিছু যেন এলোমেলো হয়ে গেছে। এমনকি নেপালের ফুটবলার, কোচ, কর্মকর্তা এমনকি দর্শকরাও হতবাক হয়েছেন বাংলাদেশের হতশ্রী ফুটবল দেখে। নেপালের ম্যাচটা দিয়েই সাফে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু স্বাগতিকদের কাছে হেরে যাওয়া দেশের ফুটবল অনুরাগীদের হতাশ করেছে। হতাশ হয়েছেন দলের ডাচ কোচ ক্রুইফও। তিনি নিজেও নাকি বিশ্বাস করতে পারছেন না তার ছেলেরা কিভাবে এমন বাজে খেললো। দুশ্চিন্তায় কোচের নাকি ঘুম হয়নি- গতকাল অনুশীলন মাঠে এসে এমনটাই জানালেন তিনি। এমনিতেই নেপালের কাছে হেরে মেজাজটা খারাপ ছিল কোচের। তার উপর গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় পুলিশ গ্রাউন্ডে অনুশীলন করতে গিয়ে দেখেন বাংলাদেশের টিম বাস ২০ মিনিট গেটে দাঁড়িয়ে, ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। কারণ মাঠে পুলিশ সদস্যদের বাছাই চলছিল। তাই অপেক্ষায় থাকতে গিয়ে আরো বিগড়ে গেছেন কোচ। দেরিতে হলেও অনুশীলন শুরু হয়। অন্যান্য দিনের মতো গতকাল ক্রুইফ সংবাদ মাধ্যমকে এড়িয়ে চলেননি। ‘ক্লোজড ডোর’ অনুশীলন থিওরি থেকে বেরিয়ে এসেছেন কোচ। মিডিয়াকে কাছে আসার সুযোগ দিচ্ছেন। মুখ খুলছেন, কথা বলছেন তিনি। জানালেন ম্যাচ নিয়ে অনেক কথা, ম্যাচ হেরে রাতে খাবার খেতে ভালো লাগেনি তার। দশরথের এ মাঠেই গত মার্চে ২-০ গোলে নেপালকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। কয়েক মাসের ব্যবধানে সব কিছু যেন উল্টে গেল। কোচ দুই মাসে যা শিখিয়েছেন তা কোথায় গেল? এই দুশ্চিন্তা নিজেকেও পেয়ে বসেছে তার। ক্রুইফ বলছেন, ‘আমি যখন কথা বলি তখন তারা মাথা নাড়িয়ে বুঝেছি বলে সায় দেয়।’ দলের রক্ষণভাগ সুসংগঠিত ছিল না। কর্ণার এবং ফ্রিকিক থেকে বিপক্ষ গোলের উত্স তৈরি করেছে। গোল দুটির জন্য রক্ষণভাগকে দায়ি করা হচ্ছে। দ্রুত গোল খেয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ কমই থাকে, বললেন ক্রুইফ। ডিফেন্ডার ওয়ালী ফয়সালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গোল খেয়ে ফেলেছি। এখন ডিফেন্ডারদের দায়ি করা হবেই। যাক, সব কথা বলা যাবে না।’ শুধু রক্ষণভাগই নয় কোনো পজিশনের খেলা দেখেই সন্তুষ্ট হতে পারেননি ক্রুইফ। তিনি তার দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের সাথে গতকাল সকালেই কথা বলেছেন। খেলোয়াড়রা নাকি বাজে পারফরম্যান্সের কারণে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ব্যর্থতার দায়ও স্বীকার করেছেন তারা। ক্রুইফ বলেছেন, ‘খেলোয়াড়রা ১০ বার দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’ কোচ অবশ্য খেলোয়াড়দের দোষ না দিয়ে তাদের কাছ থেকে জানতে চেয়েছেন ম্যাচের সমস্যা সম্পর্কে। সবার একই কথা, উইংগার জাহিদ তার খেলাটা খেলেনি। জাহিদ নিজের খেলাটা খেললে আক্রমণ বাড়ত। জাহিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি তো বলই পাই না।’ জাহিদের কথা হচ্ছে সে যদি মাঝমাঠ থেকে বলের যোগানটা না পান তাহলে আক্রমণে যাবেন কিভাবে। মাঝমাঠে জামাল ভুইয়া এবং মিশু কোচের নির্দেশনা মতো খেলতে পারেননি। জাহিদ একটা আক্রমণও শানাতে পারেননি। জাহিদের কাছ থেকে আরো ভালো খেলা আশা করেছিলেন কোচ। মামুনুল ইসলামের প্রচণ্ড আস্থা জাহিদের উপর। অনুশীলন মাঠে বলছিলেন জাহিদ যদি ভালো খেলে তাহলে পুরো দলের চেহারাই পাল্টে যাবে।’ পুরো ম্যাচে খেলোয়াড়দের মনোসংযোগের ঘাটতি ছিল বলেছেন কোচ। ক্রুইফ জানেন তার ছেলেরা কেমন এবং কতটা খেলতে পারেন। তাই এখনো আত্মবিশ্বাস হারাতে নারাজ তিনি। এখনও সব শেষ হয়ে যায়নি। সুযোগ আছে সেমিফাইনালে উঠার। কারণ আগামীকাল ভারতের বিরুদ্ধে গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচ বাংলাদেশের। এই ম্যাচটি বলে দেবে কাঠমান্ডু সাফে বাংলাদেশের দরজাটা খেলা থাকছে নাকি বন্ধ হয়ে যাবে। ক্রুইফ বলছেন, ‘ভারত কঠিন প্রতিপক্ষ হলেও আমার ক্যারিয়ারের জন্য বড় পরীক্ষা হবে। আর ফুটবল মাঠে সবই সম্ভব’।