১৫ ফুট চওড়া ৪০ ফুট দীর্ঘ একটি পাটের গুদাম ঘরে চলছে ৮৯ জন শিশু শিক্ষার্থীর পরীক্ষা ও পাঠদান। কক্ষে নেই কোন জানালা, বিদ্যুত্, ভেতরে প্রচণ্ড গরম। শিশুদের শরীর থেকে ঘাম ঝরে পরীক্ষার খাতা একাকার। এ অবস্থায় যেন কারোরই কিছু করার নেই। লোহাগড়ার শালনগর ইউনিয়নের শিয়রবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গত ৬ আগস্ট মধুমতি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার পর থেকে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এ ঘরে পরীক্ষা ও পাঠদান চলছে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নূরজাহান, স্কুলের অভাবে আমাদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম। আমাদের জরুরি স্কুল ভবন দরকার। প্রধান শিক্ষক দীপক কুমার বিশ্বাস বলেন, বাজারের একটি পাটের গুদাম ঘরে পরীক্ষা ও পাঠদান চলছে। গুদাম ঘরের মালিক দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত আশ্রয় দিয়েছেন। এরপর কোথায় যাব জানি না। বেঞ্চগুলো শিয়রবর আজিজ-আশরাফ নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে রেখেছি। অফিসের ফাইলপত্র অন্য এক বাড়িতে রয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার কৃষ্ণপদ সরকার বলেন, বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হওয়ার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। কিছুই করার ছিল না। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এখন ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। শিশুরা দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এ বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। নড়াইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জেছের আলী বলেন, জমি পেলে ঘর তুলে বিদ্যালয় প্রতিস্থাপন করা যাবে।
