হিল্লা বিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ৩২ বছরের সংসার

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:০৪
দিনমজুর মোফাজ্জল হোসেন (৫৫) রাগের মাথায় স্ত্রী রাবেয়াকে তালাক বলায় ভেঙ্গে গেছে ৩২ বছরের দাম্পত্য জীবন। হিল্লা স্বামীর কবল থেকে তালাক না পাওয়ায় ছটফটিয়ে মরছে রাবেয়া ও মোফাজ্জল। সরেজমিন, ডোমার উপজেলার ভোগড়াবুড়ি ইউনিয়নের কারেঙ্গাতলী গ্রামের মোফাজ্জল ও রাবেয়া ভালোবেসে ১৯৮১ সালে ৫,৫০১/ টাকা দেন মোহরে বিয়ে করেছিল। ৩২ বছরেও তাঁরা নিঃসন্তান। গত ৯ মে ঝগড়ার সময় স্ত্রীর উদ্দেশ্যে তালাক শব্দ উচ্চারণ করে। এই উচ্চারণের জের ধরে গ্রামীণ মাতব্বররা ফতোয়া জারি করে দু’জনকে আলাদা করে দেয়। এখানেই শেষ নয়। গ্রামের ফতোয়াবাজ মাতব্বর সহিদুল, পেনকেটু, মফিজার, মকবুল, তরিকুল গত ১১ আগষ্ট রাবেয়াকে একই গ্রামের লুত্ফর রহমানের (৬০) সাথে কারেঙ্গাতলী জামে মসজিদের ঈমাম মহসীন আলীর মাধ্যমে জোর করে হিল্লা বিয়ে দেয়। বিয়ের ৪ মাস পরও হিল্লা স্বামী তালাক না দেয়ায় আহাজারি করছে রাবেয়া। এদায় অস্বীকার করে ফতোয়াবাজ মাতব্বর সহিদুল, পেনকেটু বলেন, ‘ আমরা জোর করে হিল্লা বিয়ে দেয়নি। আমরা তাদেরকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছি। ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের ও সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য (১,২,৩ নম্বর ওয়ার্ড) আমিনা সিদ্দিকা মেরী জানান, বিষয়টি তাদের জানা নেই। কারো জানা থাক বা না থাক, ফতোয়ার কবলে পড়ে মোফাজ্জল-রাবেয়া দম্পতির ৩২ বছরের সংসার ভেঙ্গে গেছে এটা সঠিক। হিল্লা বিয়ের শিকার হয়ে মান ইজ্জত খুইয়ে প্রায় চার মাস রাবেয়া হিল্লা স্বামীর ঘরে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন এটাও বেঠিক নয়। নিজের স্ত্রীকে পরের বধূ আর অপরকে স্বামী হিসেবে মোফাজ্জল দম্পতি মেনে নিতে পারছেন না এটাও সত্য। তাহলে পূর্বের সেই সুখময় দাম্পত্য ফিরিয়ে দেয়ার দায়িত্ব কার ? নাকি ওরা দিন মজুর বলে কেউ তাদের যন্ত্রণার কথা ভাববে না?