পোশাক শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:১৪
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পোশাক শ্রমিকদের উন্নত জীবনের জন্য সবধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে এই খাতের ক্ষতি হতে পারে এমন কিছু না করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর সরকার পোশাক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ওয়েজ বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী তাদেরকে পর্যাপ্ত বেতন প্রদানের জন্য মালিকপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজতের অপপ্রচারের ব্যাপারে পোশাক শ্রমিকদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মের নামে তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। পোশাক শ্রমিকদের আগামী সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির নেতৃত্বাধীন অশুভ জোট ক্ষমতায় এলে নারী শ্রমিকরা চাকরি হারাতে পারেন। গতকাল রবিবার বিকালে আশুলিয়ায় পোশাক শিল্পের নারী শ্রমিকদের জন্য দেশের প্রথম ডরমেটরির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, পোশাক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুপারিশ প্রদানের জন্য একটি ওয়েজ বোর্ড গঠনের প্রস্তুতির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি যতক্ষণ ক্ষমতায় আছি আপনাদের কোন আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। আপনাদের সকল বৈধ দাবি-দাওয়ার প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। আমরা শ্রমিকদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে সময় শেষ হওয়ার বেশ আগেই নতুন ওয়েজ বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদফতর কর্তৃক নির্মিতব্য হোস্টেল ভবনে স্বল্প খরচে নারী পোশাক শ্রমিকরা থাকা ও খাওয়ার সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এছাড়া বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, বিনোদন ও খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা এবং তাদের শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার সার্ভিসও থাকবে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির সভাপতিত্বে এ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব তরিকুল ইসলাম বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী পোশাক শ্রমিকরা যাতে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে পারে সে লক্ষ্যেই সরকার এই ডরমেটরি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। গার্মেন্টস মালিকরা পোশাক শ্রমিকদের আবাসন সুবিধা প্রদানে প্রস্তুত থাকলে সরকার মালিকপক্ষকে আর্থিক সহায়তা দেবে। তিনি বলেন, সরকার গার্মেন্টস কলোনি নির্মাণের লক্ষ্যে বাইপাইলে জমি বাছাই করেছে। বেশ কয়েক হাজার পোশাক শ্রমিকের সুষ্ঠু আবাসন সুবিধার জন্য এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার পোশাক খাতের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এ শিল্প সমপ্রসারণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও পোশাক শ্রমিকদের উন্নত জীবন যাপন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করছে। তিনি বলেন, ২০১০ সালে পোশাক শ্রমিকদের বেতন শতকরা ৮২ ভাগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাদের প্রারম্ভিক বেতন ১৬শ’ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করা হয়। তিনি আরও বলেন, পোশাক শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ও ওভারটাইমের ভাতা নিয়মিত পরিশোধের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পোশাক কারখানায় সামপ্রতিক অগ্নিকাণ্ড এবং ভবন ধসের ঘটনায় সরকারি পদক্ষেপের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সম্ভাব্য দ্রুত সময়ের মধ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছি।’ আহত এবং নিহত শ্রমিকদের পরিবারবর্গের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ১৬ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া সরকার আহত শ্রমিকদের চিকিত্সা ব্যয় বাবদ প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা খরচ করেছে। তিনি বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার পর লাশ সনাক্ত করা যায়নি এমন পোশাক শ্রমিকদের পরিবারও সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাবে। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতা গ্রহণ করেছে তখনই নারী জাতির উন্নয়নে কাজ করেছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে নারী জাতির আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে দেশবাসীর প্রতি দেশের উন্নয়নের গতি নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতি পোশাক শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।