দলীয় কোন্দলের কারণে চট্টগ্রামে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিমের সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা জড়িয়ে পড়ায় সমস্যা জটিল আকার ধারণ করেছে। নগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরোধ এখন শুধু প্রকাশ্যেই আসেনি, ছড়িয়ে গেছে তৃণমূল পর্যন্ত। বিএনপি সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগর বিএনপিতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে কার্যত অচলাবস্থা চলছে। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে দলের অবস্থা নিরূপণের জন্য কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিম বিভিন্ন জেলা সফর করছেন। এর মধ্যে উত্তর জেলা কর্মী সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই নেতা-কর্মীরা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে বিরোধের কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীতে কেন্দ্রীয় টিমের কর্মসূচি ঠিক করা যাচ্ছে না বলে বিএনপির একাধিক নেতা জানান। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, কেন্দ্রীয় টিমের কর্মসূচি এখনো ঠিক হয়নি। কিছুদিনের মধ্যে তারিখ ঠিক করা হবে। ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ বিএনপির কর্মসূচিতে কোন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করবে না বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। তবে অপর গ্রুপের নেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। বিএনপি নেতা এএম নাজিম উদ্দিন বলেন, ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি না হলে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশংকার কথা কেন্দ্রকে জানানো হয়েছে। এটি সমাধানের পর মহানগরীর কর্মসূচি ঠিক করা হবে। তাই কেন্দ্রীয় টিমের সফর বিলম্ব হচ্ছে। চট্টগ্রামে বিএনপির অবস্থা নাজুক। ৫১ সদস্য বিশিষ্ট নগর কমিটি তিন বছর যাবত্ চলছে চার ব্যক্তি দিয়ে।
চট্টগ্রামে ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও পটিয়া এই তিন আসন ছাড়া বাকিগুলোতে প্রার্থিতা নিয়ে বড় ধরনের কোন সমস্যা নেই। কিন্তু দলের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কোন্দল চলছে। যার কারণে গত সাড়ে চার বছরে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিএনপি শক্ত আন্দোলন করতে পারেনি। সরকার বিরোধী আন্দোলনগুলো কাজীর দেউরী থেকে লাভ লেইনের মোড় পর্যন্ত কয়েকশ’ গজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে অভিযোগ আছে। বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা জানান, কেন্দ্রিয় নেতাদের ঘিরে মহানগরীতে থানা থেকে ইউনিট পর্যন্ত বিএনপির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিটি এলাকায় দু’টি কমিটি রয়েছে। কেন্দ্রিয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেয়ে নেতাদের পিছনে ছোটাটাই প্রধান কাজ বলে মনে করছে কর্মী-সমর্থকরা। চট্টগ্রামে শুধুমাত্র বিএনপি নয়, দলের পেশাজীবীসহ অঙ্গ-সংগঠনগুলোরও একই অবস্থা।
গত ২০১০ সালে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির কমিটি গঠনের জন্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দু’গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর সম্মেলনে কমিটি গঠন সম্ভব হয়নি। এরপর গত তিন বছরেও বিএনপির নগর কমিটি গঠন করা যায়নি। অন্যদিকে মামলা, ধর-পাকড় ও প্রশাসনের চাপে জোটের অন্যতম শরীক জামায়াত চরম বেকায়দায় রয়েছে। মাঝে-মধ্যে ঝটিকা মিছিল, চোরাগুপ্তা হামলা ও ভাংচুরের মধ্যদিয়ে নিজেদের অবস্থান প্রকাশের চেষ্টা চালাচ্ছে জামায়াত। জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করায় আগামী সংসদ নির্বাচনে দলের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় নেতা-কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছে। জোট থেকে থেকে বরাদ্দ পাওয়া চট্টগ্রাম-১৪ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসন রক্ষার বিষয়টিও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
