দক্ষিণবঙ্গের সর্ববৃহত্ চিকিত্সাসেবা প্রতিষ্ঠান শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও এই বিভাগের ৫টি জেনারেল হাসপাতাল ও ২১টি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের শয্যা সংখ্যা কাগজে-কলমে বৃদ্ধি করা হলেও পূর্বের কাঠামোতেই চলছে সকল কার্যক্রম। কোন প্রকার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়নি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। চিকিত্সক ও নার্সসহ পূর্বের জনবল এবং পুরনো বরাদ্দ দিয়েই শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির তকমা লাগানো হয়েছে। এ অবস্থা সৃষ্টির জন্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে দূষছেন চিকিত্সকরা।
দক্ষিণাঞ্চলবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকারের গত সাড়ে ৪ বছর ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা ও ঝালকাঠী জেলা সদর হাসপাতাল (জেনারেল) ৫০ শয্যা থেকে ১শ’ শয্যায় উন্নীত করা হয়। বাস্তবে ৫০ শয্যার এ ৫টি হাসপাতালের কার্যক্রম পূর্বের জনবল দিয়েই চলছে । এমনকি ৫০ শয্যা অনুযায়ী যে জনবল থাকার কথা তা-ও নেই এই ৫টি হাসপাতালে। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালগুলোতে ২২ জন করে চিকিত্সক থাকার কথা থাকলেও ভোলা সদর হাসপাতালে আছেন মাত্র ১২ জন, ১০টি পদ শূন্য। পিরোজপুর সদর হাসপাতালের আছেন ১৪ জন, সেখানে ৮টি পদ শূন্য। বরগুনা সদর হাসপাতালে অবস্থা পিরোজপুরের মতই ১৪ জন আছে, ৮টি পদ শূন্য। ঝালকাঠী সদর হাসপাতালের জন্য একটি পদ বেশি রয়েছে। সেখানকার ২৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৪ জন, ৯টি পদ শূন্য। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালগুলো একশ শয্যায় উন্নীত করার পর জনবল বৃদ্ধি তো দূরের কথা, পূর্বের চাহিদা অনুযায়ী জনবল নেই।
পটুয়াখালীর ১শ’ শয্যার সদর হাসপাতালটি উন্নীত করা হয়েছে ২৫০ শয্যায়। দীর্ঘ সাড়ে ৪ বছর আগে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর তা কাগজে কলমে ২৫০ শয্যায় দেখানো হয়েছে। চিকিত্সক বা নার্সসহ কোন পদেই জনবল বৃদ্ধি করা হয়নি। বরং ১০০ শয্যা অনুযায়ী পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ৫৮টি চিকিত্সক পদে কর্মরত আছেন মাত্র ২২ জন। এ হাসপাতালের পূর্বের কাঠামো অনুযায়ী ৩৬টি পদ শূন্য। অথচ কাগজে-কলমে এখন পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের সাইনবোর্ডে ঝুলছে আড়াই’শ শয্যা।
উল্লিখিত ৫টি জেনারেল হাসপাতাল ছাড়াও বর্তমান সরকারের আমলে এ বিভাগের মোট ৩৯টি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে ২১টির শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ৩১ শয্যা বিশিষ্ট এ সব উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। শয্যা বৃদ্ধি করা হলেও বাড়েনি বরাদ্দ। বৃদ্ধি করা হয়নি জনবল। সর্বশেষ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে ৫শ’ শয্যা থেকে এক হাজার শয্যায় উন্নীত করা হয়। ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো জনবল বৃদ্ধি করা হয়নি। বাড়ানো হয়নি বরাদ্দ। ফলে রোগীর সেবার মান বিন্দুমাত্র বৃদ্ধি পায়নি শয্যা বৃদ্ধির হাসপাতালগুলোতে।
শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপালের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিভিন্ন সময় এ সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের শয্যা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন। তাই আমলারা তা দ্রুত কাগজে-কলমে বাস্তবায়ন দেখিয়েছে। শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি এ ভাবে কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। শেবাচিম হাসপাতালের প্রশাসক জানান, বর্তমানে হাসপাতালের শয্যা উন্নীত একটি রাজনৈতিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘোষণা দিয়ে সাইনবোর্ড পরিবর্তন করলেই সেবার মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ গোলাম মাহমুদ সেলিম বলেন, শয্যা উন্নীতকরণের সাথে সাথে জনবল বৃদ্ধি ও ব্যয় বরাদ্দ বাড়াতে হবে। নয়তো রোগীরা প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হবে।
