অরণ্য! তবে গহীন অরণ্য নয়। এই ইট-কাঠের শহরে নিখুঁত হস্তশিল্পের এক অরণ্য। আশির দশকে রুবী গজনবী শুরু করেছিলেন এই স্বপ্ন দেখা। এর আলোকে ১৯৯৬ সালে প্রথম বনানীতে তাদের শো-রুম করা হয়। অতঃপর গেল দু’মাস আগে ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়কে অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের বিপরীতে সুপরিসরে উদ্বোধন হলো তাদের দ্বিতীয় শাখার। হরেক রকম পণ্যের পসরা বসেছে এখানে। ঘুরে এসে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র, ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু
পুরো ভবনটাতে অরণ্যের একটা আমেজ থাকলেও মূল আয়োজনটা দু’তলাতে। বাইরে থেকে কিছু ঝুলন্ত লাইট চোখে পড়বে হয়তো আপনারও। সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো অরণ্যের সাইনবোর্ডটা। সাদামাটা কাঠের উপরেই কী সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পুরোটা। দেখেই অনুমান করা যায় ভেতরে অনেক শৈল্পিক জিনিসের সমারোহ রয়েছে।
উপরে উঠতেই প্রথমে চোখে পড়বে সুন্দর কিছু অর্নামেন্টস আর সিডি-বই। খাঁটি বাঙালিয়ানাকে ধারণ করেই এগিয়ে চলছে তারা। পাবেন অনেক রকম চুড়িও। এদের সংগ্রহে রয়েছে কয়েক রকমের শাড়ি। সেগুলোর দাম শুরু হয়েছে হাজার দুয়েক থেকে। এর বাইরেও অনেক রকম সালোয়ার-কামিজ রয়েছে। সেগুলোর দামও হাতের নাগালেই পাবেন। রয়েছে অনেক রকম পাঞ্জাবি, সেগুলো সুতি, সিল্ক যে কাপড়েরই হোক না কেন, ডিজাইন অনেকটা নতুন রকমের মনে হবে। আর এর বাইরে মেয়েদের অনেক ডিজাইনের ওড়না রয়েছে। অরণ্যের সংগ্রহে আছে বেশকিছু বই আর গানের অ্যালবাম। এর মাঝেও রয়েছে শতভাগ বাঙালিয়ানা। আর মনে প্রাণে তাদের লক্ষ্য একটাই, আমাদের দেশীয় ঐতিহ্যকে সবার সামনে তুলে ধরা, সবার সামনে আমাদের দেশকে পরিচিত করানো। তাদের শো-পিসগুলো দেখলেও কয়েকবার নেড়েচেড়ে নিয়ে নিতে মন চায়। বিদেশিরা এই জিনিসগুলো পছন্দ করছে খুব। আর আমাদের দেশেও এ ধরনের জিনিসের চাহিদা দিনকে দিন বাড়ছে বৈ কমছে না।
অরণ্যের ধানমন্ডি শাখার ব্যবস্থাপক মো. মনির হোসেন জানালেন, অরণ্য সব সময়ই দেশীয় ঐতিহ্যকে লালনের চেষ্টা করে। যে পণ্যগুলো তাদের সংগ্রহে আছে, তার বেশিরভাগই তাদের তৈরি। কিছু জিনিস ডিজাইনের পর অভিজ্ঞ কারিগরদের দিয়ে তৈরি করে আনা নয়। অরণ্য কাপড়ের মানের উপরেও অনেক জোর দিয়ে থাকে, যা গুণে মানে নকশায় সবক্ষেত্রেই অনন্য। আর তারচেয়ে বড় বিষয় অরণ্য বরাবরই প্রাকৃতিক রং নিয়ে খেলতে পছন্দ করে। তাদের উত্পাদিত পণ্যে প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করা হয় বেশিরভাগ সময়।
অরণ্য যে ধারাবাহিকতায় কাজ শুরু করেছে, সে যাত্রায় তাদের প্রাপ্তিও অনেক। দেশের ও দেশের বাইরের বাঙালি অবাঙালি সবাই তাদের পণ্যকে সাদরে গ্রহণ করেছে। এই পথ ধরে তারা এগিয়ে যাবেন অনেকদূর, সেই শুভকামনা।
এ ক ন জ রে
অরণ্য
কোথায় :বাড়ি-৩৩, রোড-২৭, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা।
কবে যাবেন :সপ্তাহে সাতদিনই সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা
বিশেষত্ব :প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহার, নান্দদিক নির্মানশৈলী, দারুণ ডিজাইন
ব্যবস্থাপক বলেন :কাপড়ের মান, ডিজাইন আর রঙের বাহারি ব্যবহারই তাদেরকে আলাদা করে তুলেছে অন্যদের চেয়ে।
