তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার যেমন সারাবিশ্বের মানুষের জন্য নানা ধরনের আশির্বাদ বয়ে নিয়ে আসছে, তেমনি তথ্যপ্রযুক্তিকে আশ্রয় করে অপরাধীরাও নিত্যনতুন অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সাইবার ক্রাইমের বিভিন্ন রূপ ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম এবং ব্লগকেও অনেকে নানা ধরনের অপপ্রচারের কাজে ব্যবহার করছেন। তাই বিশ্বব্যাপী অনলাইন ব্যবহার নিয়ে নানা ধরনের আইনও প্রণয়ন করা হচ্ছে এবং সেগুলোকে আপডেটও করা হচ্ছে। আর এটা করতে গিয়ে অনেক সময়েই অনেক দেশেই তৈরি করা হচ্ছে বিতর্কিত আইন। সম্প্রতি এমনই একটি বিতর্কিত অনলাইন আইন কার্যকরী হয়েছে ভিয়েতনামে। নতুন কার্যকর হওয়া এই আইনে অনলাইনে যেকোনো ধরনের খবর শেয়ার করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ‘ডিক্রি ৭২’ শিরোনামের এই আইনে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের ব্লগ কিংবা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কোনো ধরনের খবর শেয়ার করা যাবে না। এসব মাধ্যমে কেবল ব্যক্তিগত তথ্যই পরিবেশন এবং শেয়ার করা যাবে। বিদেশি ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোকেও এই আইনে ভিয়েতনামেই লোকাল সার্ভার স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনে ফেসবুক এবং টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে কেবল ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ারের মাধ্যম হিসেবে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘ভিয়েতনাম সরকারের বিরুদ্ধে যায়’ কিংবা ‘জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর’ যেকোনো তথ্য বা সংবাদ শেয়ারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ভিয়েতনামের এই নতুন আইনকে ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী বলে সমালোচনা করেছে ইন্টারনেট কোম্পানি ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো। সংবাদের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা প্যারিসভিত্তিক সংগঠন ‘রিপোর্টাস উইদাউট বর্ডারস’ এই আইনকে ‘বাকস্বাধীনতার চূড়ান্ত পরিপন্থী’ হিসেবে অভিহিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের পক্ষ থেকেও এই আইনের সমালোচনা করে বলা হয়েছে, ‘মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো অনলাইনের জন্যও সমানভাবে কার্যকর, যার বিরুদ্ধে যায় এই আইন।’ উল্লেখ্য, ভিয়েতনামে একদলীয় শাসন রয়েছে এবং মিডিয়ার উপর কঠোর নজরদারী রয়েছে। চলতি বছরেই বেশকিছু ব্লগার এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টকে রাষ্ট্র পরিপন্থী প্রচারণার জন্যও অভিযুক্ত করা হয়েছে দেশটিতে।
