ফুকুশিমা বিদ্যুত্ কেন্দ্রে উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয়তা

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:০৯
ভূমিকম্প ও সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত জাপানের ফুকুশিমা নিউক্লিয়ার বিদ্যুত্ কেন্দ্রের উচ্চ দূষণযুক্ত একটি পানির ট্যাঙ্কির কাছে উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত হয়েছে। প্রতি ঘন্টায় ১৮ হাজার মিলিসিভার্টের এই তেজস্ক্রিয় পরিবেশে প্রতিরোধক ছাড়া চার ঘন্টা অবস্থানকারী যে কারো মৃত্যু হবে। রবিবার বিদ্যুত্ কেন্দ্রটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) বিষয়টি জানিয়েছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যাপক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দুর্ঘটনা কবলিত পরমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্রটির পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি, উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় শনাক্তের ঘটনা এ বিষয়টিকেই স্পষ্ট করে তুলেছে। শনিবার একটি ট্যাঙ্কির নীচের দিকে এই তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে টেপকো। ২২ আগস্ট এই ট্যাঙ্কিটিতে প্রতি ঘন্টায় একশ’ মিলিসিভার্ট তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত করা হয়েছিল। জাপানি আইনে স্বাভাবিক সময়ে একটি পরমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্রের কর্মীদের জন্য বছরে ৫০ মিলিসিভার্ট তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা নিরাপদ হিসাবে নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। গত মাসে এই ট্যাঙ্কি থেকে পানি চুঁইয়ে পড়ার কথা স্বীকার করেছিল টেপকো। এরপর জাপানের নিউক্লিয়ার তদারকি সংস্থা বিপদের মাত্রা আন্তর্জাতিক পরিমাপে লেভেল-১ (অস্বাভাবিক) থেকে লেভেল-৩ (মারাত্মক অবস্থা) পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছিল। বিকিরিত তেজস্ক্রিয়তাটি বিটা রশ্মির নিঃসরণ বলে জানিয়েছে টেপকো। গামা রশ্মির চেয়ে এই রশ্মিটি প্রতিরোধ করা অপেক্ষাকৃত সহজ। বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামির আঘাতে ২০১১ সালের ১১ মার্চ জাপানের রাজধানী টোকিওর উত্তরে ফুকুশিমা দাইচি নামের এই নিউক্লিয়ার বিদ্যুত্ কেন্দ্রটি বিধ্বস্ত হয়। এতে কেন্দ্রের তিনটি পরমাণু চুল্লির পরমাণু জ্বালানি গলে যেয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।