রিয়ালের ‘বেল-বরণ’

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:২৮
ট্রান্সফার জানালা বন্ধ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আসলো সেই কাঙ্ক্ষিত ঘোষণা। বহু জল্পনা-কল্পনা আর নাটকের অবসান ঘটিয়ে ট্রান্সফার ফির নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েই টটেনহ্যাম হটস্পারস থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিলেন গ্যারেথ বেল। টাকার অঙ্কটা এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করলেও চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এসেছে দুইপক্ষ থেকেই। গত রবিবার বাংলাদেশ সময় মাঝ রাতে রিয়াল তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ঘোষণা করে, ‘গ্যারেথ বেলের বিষয়ে রিয়াল মাদ্রিদ এবং টটেনহ্যাম হটস্পার একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। আগামী ছয় মৌসুমের জন্য সে হোয়াইটদের সাথে চুক্তি করেছে।’ স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর গতকালই স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টায় সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর প্রেসিডেনশিয়াল বক্সে ২৪ বছর বয়সী এই ওয়েলস তারকাকে প্রথমবারের মতো রিয়াল সমর্থকদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। এরপরই রিয়ালের খেলোয়াড় হিসেবে প্রথমবারের মতো মাঠেও নামেন তিনি। তারপর ছিল প্রথাগত সংবাদ সম্মেলন পর্ব। ফক্স স্পোর্টসসহ বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা বলছে, ট্রান্সফার মানি হিসেবে টটেনহ্যাম চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল লেভি তার প্রত্যাশিত অঙ্কটাই পাচ্ছেন, ১০০ মিলিয়ন ইউরো। আর বেলের বেতনও ধরা হয়েছে রোনালদো, কাকাদের সমানই। ট্যাক্স বাদে সেটির পরিমাণ সপ্তাহে এক লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড। এদিকে টাকার অঙ্ক সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে না জানালেও একে ‘ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্রান্সফার রেকর্ড’ বলে আখ্যায়িত করেন স্পারস কোচ ভিলাস বোয়াসও। গতকাল ট্রান্সফার মৌসুম শেষ হবার আগেই নিজের স্বপ্নের ক্লাবে ঠিকানা গড়তে পেরে উচ্ছ্বসিত বেলও। তবে বিদায় বেলায় পুরনো ক্লাব আর সমর্থকদের জন্য নিজের ভালোবাসার কথা জানান দিতেও ভুল করলেন না, ‘আমি জানি না যখন আমি ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে আছি ঠিক সেই মুহূর্তে একটি ক্লাব ছাড়াটা আমার উচিত হচ্ছে কিনা। আর বিশেষ করে যখন আমি এই ক্লাবের পরিবেশে পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে গেছি। খেলোয়াড়দের তাদের স্বপ্নের ক্লাবে যাওয়ার ইচ্ছার কথা বলতে আমরা হরহামেশাই শুনি। তবে আমার ক্ষেত্রে বলতে পারি, সত্যিই আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।’ কার্ডিফে ১৯৮৯-এ জন্ম নেয়া বেলের পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু হয় সাউদাম্পটনের হয়ে। এরপরই সপ্তদশ সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ওয়েলস জাতীয় দলে ডাক পান তিনি। তার কিছুদিন পরেই জাতীয় দলের জার্সি গায়ে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হওয়ার রেকর্ড গড়েন। এরপর ২০০৭ সালে টটেনহ্যামে যোগ দেয়ার বছর খানেক পরেই পরিণত হন হোয়াইট হার্ট লেনের সেরা খেলোয়াড়ে। লেফট ব্যাক থেকে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন মিডফিল্ডের প্রাণভোমরায়। এরই মধ্যে দলকে পৌঁছে দেন ২০০৯ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চূড়ান্ত পর্বে। এরপর গত বছর ইংলিশ লিগের বর্ষসেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পাশাপাশি জেতেন বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের খেতাবও। এরই ফলাফল স্বরূপ তাকে দলে ভেড়াতে প্রতিযোগিতায় নামে রিয়ালসহ বেশ কয়েকটি ক্লাব। তবে লেভির বিপুল পরিমাণ অর্থের দাবিতে অচিরেই সেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকে কেবল রিয়ালই। টটেনহাম থেকে রিয়াল মাদ্রিদ (২০১৩) গ্যারেথ বেল ৯১-১০১ মিলিয়ন ইউরো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে রিয়াল মাদ্রিদ (২০০৯) ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ৯৪ মিলিয়ন ইউরো জুভেন্টাস থেকে রিয়াল মাদ্রিদ (২০০১) জিনেদিন জিদান ৭৫ মিলিয়ন ইউরো এসি মিলান থেকে রিয়াল মাদ্রিদ (২০০৯) কাকা ৬৭.২ মিলিয়ন ইউরো ন্যাপোলি থেকে প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (২০১৩) এডিসন কাভানি ৬৪ মিলিয়ন ইউরো