শ্রমিকের রক্তের বিনিময়ে তৈরি পোশাক কিনবে না যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:১০
শ্রমিকদের রক্তের বিনিময়ে তৈরি করা পোশাক যুক্তরাষ্ট্র কিনবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা। তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই পোশাক উত্পাদন করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিবেশ উন্নয়ন করতে পারলে পুনরায় পাওয়া যাবে জিএসপি (অগ্রাধিকার মূলক বাণিজ্য সুবিধা)। পাশাপাশি ব্র্যান্ড বাংলাদেশের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করে বিশ্ববাজারেও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। তবে পুনরায় কোন দুর্ঘটনা ঘটলে বাংলাদেশের পোশাক খাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে বায়াররা। গতকাল সোমবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিতে (ডিসিসিআই) হেল্প ডেস্ক উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ডিসিসিআিই সভাপতি মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ এবং যৌথ মূলধনী কোম্পানিগুলোর নিবন্ধক (আরজেএসসি) বিজন কুমার বৈশ্য বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান শেষে ড্যান মজীনা ডিসিসিআইয়ের হেল্প ডেস্ক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে ড্যান মজীনা আরো বলেন, সমপ্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একজন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের শ্রমিকের রক্তের বিনিময়ে তৈরি করা পোশাক কিনবে না। রানা প্লাজা ধসের পর যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, যথেষ্ট হয়েছে। আর কোন ছাড় নয়। কোনোভাবেই এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে দেয়া যায় না। যেভাবেই হোক পোশাক কারখানার কাঠামোগত পরিবর্তন করতে হবে। পোশাক মালিক, শ্রমিক, বায়ার, সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সবাইকে এই লক্ষ্যে সম্মিলতিভাবে কাজ করতে হবে। যে করেই হোক পোশাক কারখানায় দুর্ঘটনা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশের পোশাক খাত থেকে বায়াররা মুখ ফিরিয়ে নেবে। তিনি উল্লেখ করেন, রানা প্লাজা ও তাজরীনসহ যেসব দুর্ঘটনা সামপ্রতিক সময়ে ঘটে গেছে, তার মূল কারণ হলো-লোভ, দুর্নীতি ও অবহেলা। আর এসবের কারণে প্রাণ দিতে হয়েছে নির্দোষ শ্রমিকদেরকে। এ ধরনের পরিস্থিতি মেনে নেয়া যায় না। আগেও বাংলাদেশে বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সেসব ঘটনার পর কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তাই রানা প্লাজা ও তাজরীনের ঘটনা ভুলে যাওয়া চলবে না। কিছু বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। সাতটি বিষয়ে গুরুত্ব দেয়ার কথা উল্লেখ করে ড্যান মজীনা বলেন, প্রথমত-পোশাক কারখানাগুলোতে শ্রমিক অধিকার রক্ষা, অগ্নি নিরাপত্তা, তদারকি, শ্রমিক আইন সংস্কার এবং ট্রেড ইউনিয়নের সুযোগ দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের জিএসপি স্থগিতের সময় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ সুবিধা পুনর্বহালে যে রোড ম্যাপ দিয়েছেন তা পালন করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে যেন পুনরায় এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে। তৃতীয়ত, পোশাক কারখানায় কাজের পরিবেশ উন্নয়নের জন্য সহযোগিতা করতে ইইউ ও আমেরিকার ১০০ বায়ার প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজন হলে তাদের সহযোগিতা নিয়ে কারখানার পরিবেশ উন্নয়ন করতে হবে। চতুর্থত, আইএলও’র (আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা) কারিগরি সহায়তা গ্রহণ এবং কারখানার পরিবেশ, অগ্নি নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আইএলও’র সঙ্গে সমন্বিত তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পঞ্চমত, আইএলও’র বেটার ওয়ার্ক প্রোগ্রামে সংযুক্ত হতে হবে। যার আওতায় কারখানায় কাজের পরিবেশ সন্তোষজনক রয়েছে কিনা তা বিবেচনা করে দেখা হবে। ষষ্ঠত, শ্রমিকদেরকে শ্রমিক ইউনিয়ন করার সুযোগ দিতে হবে। সপ্তমত, বাংলাদেশের পোশাক খাতের উন্নয়নে সরকারকে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নেদারল্যান্ড, জার্মানি ও নরওয়ে সরকার সাধ্যমতো সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। অনুষ্ঠানে কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ বলেন, বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে নিবন্ধন সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ডিসিসিআইয়ের হেল্প ডেস্ক প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এর মাধ্যমে বিনিয়োগের প্রাথমিক পদক্ষেপ সহজ হয়ে গেল। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও ঘন ঘন হরতালের ফলে দেশি-বিদেশি কোন বিনিয়োগই বাড়ছে না। ফলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। জিএসপি পুনর্বহালে তিনি মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে সহায়ক ভূমিকা রাখার আহবান জানান।