মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খানকে কারাগারে ডিভিশন (প্রথম শ্রেণির বন্দীর মর্যাদা) প্রদানের জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি জাফর আহমেদকে নিয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে আদিলুরকে কেন প্রথম শ্রেণির বন্দীর মর্যাদা দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকা ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক, আইজি প্রিজন, ঢাকা ও কাশিমপুর কারাগারের জেলারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের সরিয়ে দিতে গত ৫ মে রাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালায়। ওই অভিযানে ৬১ জন নিহত হয় বলে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে অধিকার। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে অধিকারের কাছে ওই নিহতের তালিকা চাওয়া হলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানায় সংগঠনটি। পরে হেফাজতবিরোধী মতিঝিল অভিযান নিয়ে অসত্য ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রকাশের অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে গত ১০ আগস্ট রাতে গুলশান থেকে আদিলকে গ্রেফতার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর তাকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অনুমতিতে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। পরে ওই রিমান্ড আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন আদিল। হাইকোর্ট রিমান্ড আদেশ স্থগিত করে আদিলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তবে পুলিশ চাইলে তাকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। এরপর আদিলকে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর-১ কারাগারে রয়েছেন।
কারাগারে তাকে ডিভিশন দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন তার স্ত্রী ড. সায়রা রহমান খান। আবেদনে বলা হয়, জেল কোডের (কারাবিধি) ৯১০ ধারায় বিচারাধীন বন্দীর ডিভিশন প্রদানের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বন্দীর সামাজিক মর্যাদা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, জীবনধারণ পদ্ধতি বিবেচনায় নিয়ে জেল কর্তৃপক্ষ ডিভিশন প্রদান করতে পারে। আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন সাবেক এটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী। তাকে সহায়তা করেন এডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান ও ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। শুনানিশেষে হাইকোর্ট আদিলকে ডিভিশন দেয়ার পাশাপাশি সরকারের প্রতি রুল জারি করে।
