হতের স্ত্রী, কন্যা, ভাতিজা এবং তার গাড়ি চালক। ইতোমধ্যে গাড়ি চালক লিটনকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এর আগে স্ত্রী, কন্যা ও ভাতিজাকেও ডিবি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তাদের মোবাইল ফোনের কললিস্টও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
ডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ড যারাই ঘটিয়ে থাকুক, তাদের সাথে নিহত ফজলুল করিমের ঘনিষ্ঠ যে কোন স্বজনের যোগাযোগ হয়েছিল। এভাবে বাসায় ঢুকে জিম্মি করে গুলি করে হত্যার পর ঘাতকরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও পরিবারের কারো না কারো হাত রয়েছে। কারণ সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে গুলি করার সময় তার স্ত্রী ঘটনাটি দেখলেও ঘাতকরা কেনো তাকে গুলি করেনি তা নিয়েও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। গাড়ি চালক লিটনের কাছ থেকে ডিবি এরকমই কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। ঘটনার এক সপ্তাহ আগে ঐ গাড়ি চালককে নিহতের স্ত্রী নিয়োগ দিয়েছিলেন। কি কারণে গাড়ি চালক পরিবর্তন করা হলো-এর উত্তর এখন খুঁজছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ওদিকে, সিআইডিতে হত্যাকাণ্ডের আলামত পরীক্ষা করে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে শুধু একজন ব্যক্তির রক্তের আলামত পাওয়া গেছে। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে ঘাতকদের মধ্যে কেউই সেখানে রক্তাক্ত হননি। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা পায়ের ছাপ থেকে ঘাতকদের কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। সিআইডি’র ফরেনসিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, সেখানে হাজার রকমের পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে, যা থেকে নির্দিষ্ট কিছুই শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
নিহতের স্ত্রী, কন্যা ও ভাতিজার মোবাইল ফোনের কললিস্ট পরীক্ষা করছে ডিবির একটি টিম। এই তিন জনের মোবাইল ফোনের কললিস্ট থেকে অন্তত শতাধিক মোবাইল নম্বর ডিবি পরীক্ষা করছে।
এদিকে, ঘটনার পাঁচ দিন পরও কোনো আসামি গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, রবিবার রাতে রামপুরা এলাকা থেকে সন্দেহভাজন হিসাবে ২ জনকে আটক করেছে। মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ও পারিবারিক বিরোধ এই দুই কারণকে সামনে রেখে পুলিশ এ হত্যার তদন্ত করছে।
ডিবির উপ-কমিশনার (পূর্ব) জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর জানান, মামলার উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই। কিলারদের ধরতে চেষ্টা করা হচ্ছে।
