রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:১৫
রাজশাহীতে দীর্ঘ ১০ বছর পর পদ্মার পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। পদ্মায় পানি বাড়ার সঙ্গে মহানগরীর আশেপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে হারে পানি বাড়ছে তাতে শিগগিরই পানি বিপদসীমা অতিক্রম করবে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে নগরীর সাগরপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার পুকুর ও ড্রেনে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে পদ্মার বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার। রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৮ দশমিক ৪৬ সেন্টিমিটার। যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বাধিক। এর আগে ২০০৩ সালে রাজশাহীতে পদ্মা বিপদসীমা অতিক্রম করেছিল। ঐ বছর পদ্মার পানি ১৮ দশমিক ৮৫ সেন্টিমিটার উঠেছিল। এদিকে পদ্মায় পানি বাড়ায় মহানগরীর পাঠানপাড়ার বিজিবির অবকাশ কেন্দ্র, গুড়িপাড়া, শ্রীরামপুর, পঞ্চবটি, জাহাজ ঘাঁটিসহ অন্তত ১০টি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় এসব এলাকার মানুষ পানির মধ্যেই বসবাস করছে। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে শহরের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হচ্ছেন। হুমকির মুখে রয়েছে বিজিবির চর খানপুর বিওপি, ১০ নম্বর চর বিওপি ও চর মাঝারদিয়াঢ় পোস্ট ক্যাম্প। পাউবো সূত্র মতে, রাজশাহীর বাঘা, চারঘাট, গোদাগাড়ী ও পবার বিভিন্ন এলাকায় বাঁধের বাইরে পদ্মার পানি বাড়ার ফলে অকাল বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার শতশত মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পাউবোর রাজশাহী অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ বলেন, পদ্মায় যে হারে পানি বাড়ছে তাতে যে কোন সময় পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বেশ কিছু নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে। গোদাগাড়ীতে পদ্মার ভাঙ্গনে ২ হাজার পরিবার গৃহহীন গোদাগাড়ী (রাজশাহী) সংবাদদাতা জানান, গোদাগাড়ী চরাঞ্চলে পদ্মানদীর ভাঙ্গনে ২ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি, ফলদ ও বনজ গাছ, রাস্তা, স্কুল ও মসজিদ। ভাঙ্গনকবলিত এলাকার লোকজন জানান, গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের চর বয়ারমারী, আমতলা খাসমহলা, ডাকরীপাড়া, চর নওশেরা, হুনমন্তনগর এবং পার্শ্ববর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলী ইউনিয়নের লুটারুপাড়া, কোদালকাটি, কলিমপাড়া, বগচর, রানীনগর, বালিগ্রাম, ছয়রশিয়া গ্রামে বর্ষার শুরুতেই ভাঙ্গন দেখা দেয়। পদ্মানদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর ভাঙ্গন তীব্রতর হলে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ ফুট করে নদীর পাড় ভাঙ্গছে। এতে করে চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের ৫০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের মুখে পড়ে আরও ৫ শতাধিক বাড়ি সরিয়ে নিয়েছে লোকজন। ৩শ হেক্টর ফসলি জমি, ৫ হাজার বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছ এবং ১ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। চাঁপাইবাবগঞ্জের পদ্মার পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং মহানন্দায় ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় পদ্মায় ৭ সেন্টিমিটার ও মহানন্দায় ৪ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৫ বছরের মধ্যে এবারই পদ্মা ও মহানন্দায় বন্যার পানি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পানি বাড়ায় প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পদ্মানদীর চর এলাকার মানুষের ভোগান্তি বেড়ে গেছে। শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত আছে। গতকাল সোমবার সদর উপজেলা ও শিবগঞ্জ উপজেলায় চাল বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা। অবৈধভাবে বালু তোলায় নড়িয়ায় পদ্মার ভাঙ্গন নড়িয়া (শরীয়তপুর) সংবাদদাতা জানান, শরীয়তপুরে নড়িয়ায় পদ্মার ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙ্গনের শিকার হয়ে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পদ্মা পাড়ের মানুষ। জেলার নড়িয়া উপজেলার ওয়াপদা বাজার ও চরজুজিরা গ্রামে ২ ঘণ্টায় প্রায় অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি ও সরকারি সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সম্বল হারিয়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে সরকারি রাস্তায়। নদী ভাঙনের শিকার এসব মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট। সরকারি সহায্য-সহযোগিতা না পেয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন তারা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে নদীর তীর থেকে বালু উত্তোলনের ফলে যেখানে সেখানে গভীরতা হওয়ায় বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই নদীর গতিপথ নানান দিকে প্রভাবিত হওয়ায় ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে বর্ষা মৌসুমে এ ধরনের ভাঙ্গন তৈরি হওয়ার কথা স্বীকার করেন।