একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্তরা ভোটার থাকতে পারবেন না। এমন বিধান রেখে ‘ভোটার তালিকা (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০১৩’-এর খসড়া গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১৩টি বিষয়ে নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শেষে মন্ত্রীপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসাইন ভূঁঞা সাংবাদিকদের এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।
‘ভোটার তালিকা (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০১৩’-এর খসড়া অনুযায়ী ‘দালাল আইন, ১৯৭২’ বা ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩’ -এর আওতায় কোনো ব্যক্তি দণ্ডিত হলে তার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে। এমন দণ্ডিত ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে না।
‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন (সংশোধন), ২০১৩’ অনুযায়ী এখন থেকে ১৮ বছরের কম বয়সীদেরও জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হবে। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার ছয় মাস আগে নবায়নের জন্য আবেদন করার নিয়মটি খসড়ায় পরিবর্তন করা হয়েছে। খসড়ায় জাতীয় পরিচয় নিবন্ধনের সময় কোনো তথ্য গোপন করলে পাঁচ বছরের সাজা ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
বহুল আলোচিত ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০১৩’-এর খসড়া গতকাল অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী এটি আইনে পরিণত হবে।
‘ডিএনএ আইন, ২০১৩’-এর খসড়া অনুযায়ী অপরাধী, ভাই-বোন শনাক্ত, বিচ্ছিন্ন মৃতদেহ শনাক্ত করার কাজ করা হবে। এ ব্যাপারে মিথ্যা তথ্য দিলে সাত বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৩’-এর খসড়াও মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী বিনা নিবন্ধনে ব্যবসা চালালে দুই মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।
এছাড়া বৈঠকে ‘পল্লী বিদ্যুত্ বোর্ড আইন, ২০১৩’, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) আইন, ২০১৩’, ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) আইন, ২০১৩’ ও অটিজম-সংক্রান্ত আইনের খসড়া এবং অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ (দ্বিতীয় সংশোধন) আইনের খসড়া অনুমোদন করা হয়।
