পৃথিবী থেকে অনেক দূরের গ্রহ ভেজিটা। সেখানে থাকে সেয়েনরা। মানুষের মতো দেখতে হলেও ঠিক মানুষ নয় তারা। দীর্ঘ বিবর্তনের পর মানুষের মুখ আর শিয়ালের মতো লেজ নিয়ে দোর্দণ্ড প্রতাপে ভেজিটা কাঁপাচ্ছে ওরা। ওদের শখ নাকি ঢিসুম ঢিসুম মানে মারামারি করা। একে ধরে তো ওকে মারে। ওকে মারে তো তাকে ছাড়ে। পাশের গ্রহের ‘নীল’রা এসেছে সেয়েনদের সঙ্গে চুক্তি করতে। নীলরা বলল, তোমরা একলিপস গ্রহ ধ্বংস করতে পারলে আমাদের সব প্রযুক্তি তোমাদের দেবো। রাজি হয় সেয়েনরা। শুরু হয় মিশন একলিপস। একলিপসদের ধ্বংস করা মোটেও সহজ নয়। কারণ, সেয়েনদের মতো একলিপসরাও প্রচুর শক্তিশালী।
এভাবেই ছোট্ট বন্ধু তাহমিদ নাভিদ আজাদ শুরু করে সেয়েনদের গল্প। সে এস এফ এক্স গ্রিনহেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। ভালোবাসে ছবি আঁকতে। একাধিকবার জিতে নিয়েছে সেরা কমিক আঁকিয়ে পুরস্কার। আঁকতে আঁকতে লেখার ঝোঁক আসে। লিখে ফেলে সায়েন্স ফিকশন ‘সেয়েনদের কথা’। শুরুর মতো গল্পের শেষটাও রেশ মাখানো। মনে হবে শেষ হয়েও হয়নি শেষ।
মজার ব্যাপার হলো, ‘সেয়েনদের কথা’র প্রচ্ছদ এবং ভেতরের তকতকে ঝকঝকে ছবিগুলো এঁকেছে নাভিদ নিজেই। একইসঙ্গে পুরো গল্পটিও সে ইংরেজিতে বলেছে তোমাদের জন্য। গল্প শেষে আরো কিছু মনকাড়া ছবি সেঁটে দিয়েছে নাভিদ। এত ছোট্ট বয়সে বই প্রকাশ হওয়ায় বেশ আনন্দিত সে। ওই দেখ না কেমন হাসিতে গদগদ হয়ে বইপ্রকাশের অনুভূতি বলছে আমাদের—প্রথমে তো বিশ্বাসই হয়নি আমার বই বেরুবে। আম্মুর উত্সাহ আর আব্বুর অনুপ্রেরণায় লিখে ফেলি সেয়েনদের কথা। বড়রা বেশ প্রশংসা করছে। তোমরা অবশ্যই আমার বইটি পড়বে এবং কেমন লাগল জানাবে।’
বন্ধুরা! শুধু পড়লেই হবে না। নাভিদের মতো লিখতেও হবে। তোমরা হয়তো জানো, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও খুব অল্প বয়সেই লেখালেখি শুরু করেন। শ্রীলংকার জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক জোনাকি সোরিয়ারাচ্চি মাত্র আট বছরে লিখে ফেলেন তাঁর প্রথম বই ‘আ ব্যালেড’। তাঁরা পেরেছেন, তুমিও পারবে।
সেয়েনদের কথা
THE STORY OF SAIYANS
তাহমিদ নাভিদ আজাদ
প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ: লেখক
প্রকাশক: পাঠশালা
মূল্য: ১৬০ টাকা
