এই সেদিনও প্রতিমুহূর্তের খবরাখবরের একমাত্র মাধ্যম ছিল রেডিও। আজকাল রেডিওর সেই কদর আর নেই। যেন এখন স্মৃতিময় সে রেডিও।
পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরেও রেডিওর দেখা তেমন মেলে না। কিছু কিছু ঘরে রেডিও থাকলেও তা আজ বাচ্চাদের খেলার সামগ্রী হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে আবার সাজিয়ে রেখেছে শোকেসে। গ্রামের বয়োবৃদ্ধদের কাছ থেকে জানা গেল, তাঁদের সময়ে নানা অনুষ্ঠান, বিনোদন ও খেলার ধারাবর্ণনা ছাড়াও আবহাওয়া, রাজনৈতিক খবরাখবর শোনার একমাত্র মাধ্যম ছিল রেডিও। বিশেষ করে উপকূলবাসীদের আবহাওয়ার খবর জানার প্রধান যন্ত্র ছিল এটি। এছাড়া জেলে সম্প্রদায় যারা গভীর সাগরে মাছ আহরণে যেত তারা আবহাওয়ার খবরের জন্য নির্ভর করত রেডিওর ওপর।
রেডিও আসার পর প্রায় ঘরে ঘরে জায়গা করে নেয় টেনডেস্টার নামের রেডিও। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে দেওয়া হতো এটি। তখন তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বয়স্কদের কাছে রেডিওর বিশেষ গুরুত্ব ছিল। বেতারশ্রোতারা বেশিরভাগ সময় নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসংগীত, গানের ডালি, দুর্বার, সুখী সংসার, দর্পণ, বাংলা ছায়াছবির গান, নাটক শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন। ইদানীং মোবাইলফোন, টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের কারণে রেডিও শোনার কেউ আগ্রহবোধ করে না। নতুন নতুন প্রযুক্তির দাপটে বেতারযন্ত্র তার জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলেছে। গ্রামগঞ্জে বিদ্যুত্ পৌঁছে যাওয়ায় দুই-একটা ঘর ছাড়া রেডিও খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কিছু প্রবীণ মানুষের কাছে রেডিওতে বিবিসির খবর শোনা এখনো পছন্দনীয়। তবে ভবিষ্যতে বইতে বেতারযন্ত্রের কথা পেলেও বাস্তবে রেডিও দেখতে হলে জাদুঘরে যেতে হতে পারে।
গলাচিপার রতনদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লুত্ফুন নাহার বলেন, ছোটকাল থেকে বিভিন্ন বিষয়ে যা কিছু জানা সবই প্রায় এই রেডিওর কারণে। আমার ঘরে টেলিভিশন থাকলেও শত কষ্ট হলেও রেডিওকে আগলে রাখি। সুখেদুখে রেডিও আজো আমার সঙ্গী।
