২০১০ সালে শুরু হওয়া দেশের দ্রুতবর্ধনশীল ওয়াইম্যাক্স অপারেটর বাংলালায়ন ৭টি বিভাগীয় শহরে এবং ৩৪টি জেলায় ইতোমধ্যেই তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তার করেছে।
দ্রুত নেটওয়ার্ক বিস্তার ও গ্রাহক সংখ্যার বিচারে সারাবিশ্বে তৃতীয় ওয়াইম্যাক্স অপারেটর হিসাবে বাংলাদেশের ‘বাংলালায়ন’-এর নাম উঠে এসেছে। এই তালিকায় প্রথমে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিয়ার অয়্যার এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপানের ইউকিউ বলে দাবি করেছে বাংলালায়ন কর্তৃপক্ষ। বাংলালায়ন বিশ্বের ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তিতে দৃষ্টান্তস্থাপনকারী একটি প্রতিষ্ঠান। ২০০৮ সালের ১৮ নভেম্বর একটি স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বাংলাদেশে ওয়াইম্যাক্সের লাইসেন্স প্রদান করা হয়। এই নিলামে দেশ-বিদেশের অসংখ্য প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করলেও সর্বোচ্চ দরের ভিত্তিতে তিনটি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান বিটিসিএলসহ চারটি প্রতিষ্ঠানকে ওয়াইম্যাক্স লাইসেন্সের জন্য মনোনীত করা হয়। পরবর্তীতে ব্র্যাকনেট তাদের নিরাপত্তা জামানত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলালায়ন এবং অজের ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড (কিউবি) প্রত্যেকে ২১৫ কোটি টাকা ফি প্রদান করে ওয়াইম্যাক্স লাইসেন্স গ্রহণ করে এবং সফলভাবে ওয়াইম্যাক্স সেবা প্রদান করে আসছে। অদ্যাবধি বাংলালায়ন ও কিউবি মিলিয়ে প্রায় ৭ (সাত) লক্ষ গ্রাহককে সেবা প্রদান করছে। এই গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধির কারণেই বাংলালায়ন গত অর্থবছর পর্যন্ত বিটিআরসি কর্তৃক নির্ধারিত অর্থ স্পেকট্রাম ফি বাবদ ২৯ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা, লাইসেন্সের শর্ত মোতাবেক ৪% রেভিনিউ শেয়ারিং বাবদ ৮ কোটি ৯৪ লক্ষ টাকা এবং বাত্সরিক লাইসেন্স ফি বাবদ ৯ কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে।
ওয়াইম্যাক্স লাইসেন্সের শর্ত মোতাবেক বিটিআরসি কর্তৃক সারাদেশে ৪টি আঞ্চলিক বিভাগে ভাগ করে লাইসেন্স প্রাপ্ত ৪টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিটিকে দেশের এক-চতুর্থাংশ নেটওয়ার্ক বিস্তার করবে বলে নির্ধারণ করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে বিটিসিএল এবং ব্র্যাকনেট সেবা কার্যক্রমে না আসায় বাংলালায়ন এবং কিউবি প্রত্যেককে দেশের অর্ধাংশে নেটওয়ার্ক বিস্তার করার জন্য বলা হয়। সেই হিসেবে বাংলালায়ন দেশের সাতটি বিভাগীয় শহর ও ৩৪টি জেলায় নেটওয়ার্ক বিস্তারের মাধ্যমে ইতোমধ্যে লাইসেন্সের শর্ত সম্পূর্ণভাবে পূরণ করেছে। শুধু তাই নয়, এ বছরের মধ্যেই বাংলালায়ন দেশের বাকি জেলাগুলোতে নেটওয়ার্ক বিস্তারের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ওয়াইম্যাক্স সেবা কার্যক্রমের সফল বিস্তৃতি এবং গ্রাহকসেবার কারণে এর আগে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে সন্তোষও প্রকাশ করা হয়েছে। খুব দ্রুতই দেশের বাকি অঞ্চলেও তাদের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেবে বলেই আশাবাদ জানিয়েছে বাংলালায়ন কর্তৃপক্ষ।
