‘দাও শৌর্য, দাও ধৈর্য, হে উদারনাথ, দাও প্রাণ/ দাও অমৃত মৃত জনে, দাও ভীত—চিত জনে, শক্তি অপরিমাণ/হে সর্বশক্তিমান...।’ একক ও সম্মিলিত কণ্ঠে এরকম আরো অসংখ্য গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্মরণ করা হলো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে। দ্রোহ, প্রেম, সাম্য ও মানবতার এই কবিকে জানানো হলো শ্রদ্ধাঞ্জলি।
‘জনম জনম গেল আশাপথ চাহি’ শীর্ষক এ সঙ্গীতাসরটি বসেছিলো রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমীর সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে। কবির ৩৭তম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে যৌথভাবে এ স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করে নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ ও শিল্পকলা একাডেমী।
সঙ্গীতানুষ্ঠানের শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুজিত মোস্তফা। এরপর বৃন্দ পরিবেশনা দিয়ে শুরু হয় সঙ্গীতাসর। অনেকগুলো কণ্ঠ এক সুরে গেয়ে ওঠে, গানে গানে বিধাতার কাছে আত্মশক্তি অর্জনের প্রার্থনা করে। দ্বিতীয় গানে উচ্চারিত হয় প্রাণের বারতা। সম্মেলক কণ্ঠে গীত হয় ‘মৃত্যু নাই, নাই দুঃখ, আছে শুধু প্রাণ।’ এরপর একক কণ্ঠে সুরে সুরে শ্রদ্ধা জানানো হয় জাতীয় কবিকে।
শ্যামল আহমেদ চৌধুরী গেয়ে শোনান ‘সাঁঝের পাখিরা ফিরিল কুলায়’। ‘মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই’ গানটি পরিবেশন করেন শায়লা রহমান। এম এ মান্নান পরিবেশিত গানের শিরোনাম ছিল ‘পূবাল হাওয়া’। সুমন চৌধুরীর কণ্ঠে গীত হয় ‘কে তুমি দূরের সাথী’। ‘পরজনমে দেখা হবে প্রিয়’ গানটি পরিবেশন করেন অনিন্দিতা চৌধুরী। আশীস কুমার সরকারের গানে উচ্চারিত হয় ঘুমভাঙা রাতের কথা। তিনি গেয়ে শোনান ‘গভীর নিশীথে ঘুম ভেঙে যায়’। ‘সেদিনও বলেছিলে সেই সে ফুলবনে’ গানটি পরিবেশন করেন মাহবুবা আখন্দ মিনু। রেবেকা সুলতানা পরিবেশন করেন ‘আবার ভালোবাসার সাধ জাগে’। ‘কেন আনো ফুলডোর আজি বিদায়বেলা’ গানটি শোনান রুমী আজনবী। ইয়াসমীন মুশতারী গেয়ে শোনান ‘মনে পড়ে আজ সে কোন জনমে’।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে একক কণ্ঠে সঙ্গীত পরিবেশন করেন ফাতেমা তুজ জোহরা, ফেরদৌস আরা, ইফফাত আরা নার্গিস, রওশন আরা সোমা, স্মরণ বড়ুয়া, রাহাত আরা গীতি, নাজিয়া মিশকাত তমা, রফিক আহমেদ, নীলুফার বেগম নীলা, বিপাশা গুহ ঠাকুর, তাপস চক্রবর্তী, শারমীন জাহান, সাজিদা সুলতানা, ফেরদৌস পারভীন, ফারজানা রাইসা, লায়লা মতিন, মায়া আখতারী প্রমুখ। শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন নজরুলের নানা আঙ্গিকের গান দিয়ে সাজানো এই সঙ্গীতাসরটি।
