দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচনে সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করবো

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:০৯
সংসদ বহাল রেখে দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচন হলে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এজন্য নির্বাচনী আইন পর্যালোচনা করে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধি করবে তারা। তবে আগামী ৩১ অক্টোবরের আগে কোন আচরণবিধি প্রণয়ন করবে না কমিশন। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে এটা করার পরিকল্পনা করেছে ইসি। এছাড়াও ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করে জানুয়ারি তৃতীয় সপ্তাহে নির্বাচন করার চিন্তা আছে কমিশনের। এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ৪ জন নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবালয়ের সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিয়ে দু’দফা বৈঠক করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ। বৈঠকশেষে সাংবাদিকরা সিইসির কাছে জানতে চান, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে একটি দল বেশি সুবিধা পাবে কি না। জবাবে সিইসি বলেন: সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব। আর সে দায়িত্ব আমরা পালন করবো। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে যে কোনো সময় নির্বাচন হবে। পরদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দু’ দফা বৈঠক করেন নির্বাচন কমিশনাররা। নির্বাচনের প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন নির্বাচন কমিশনাররা। সিইসি বলেন, আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনকালীন সরকারের শেষ ৪৫ থেকে ৩৫ দিন জাতীয় নির্বাচনের স্ট্যান্ডার্ড সময়। এই সময়ের মধ্যেই সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, তারা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছেন ২০১২ সালের মার্চ থেকে। কাজেই প্রস্তুতিতে কোন ঘাটতি নেই। এ পর্যন্ত ভোটার তালিকা হালনাগাদ, সীমানা পুনর্বিন্যাস, স্বচ্ছ ব্যালট বক্স ও অমোচনীয় কালিসহ নির্বাচনী সামগ্রী কেনার কাজ শেষ করেছি। সিইসি বলেন, আগামী নির্বাচনে ছয় লাখ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। এরইমধ্যে এ প্রশিক্ষণ শুরু করতে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। এখন প্রশিক্ষণের স্থান ও প্রশিক্ষক (ট্রেনার) তৈরির কাজ চলছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণের আগের ৯০দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। তবে এখনো নির্বাচনের নির্দিষ্ট কোন সময় নির্ধারণ হয়নি। প্রধানমন্ত্রীসহ সংসদ সদস্যরা পদে থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সব দলের জন্য সমান সুযোগ থাকবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আমাদের হাতে এখনো সময় আছে। এসব বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখবো। আগামী নির্বাচনে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, নির্বাচনী রোডম্যাপ অনুযায়ী নির্বাচনের প্রস্তুতিতে আমাদের এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ভালই। সিইসি বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি এমন থাকে যেন আকস্মিক নির্বাচন হলেও যেন তা করা যায়। বরগুনা-২ আসনের উপ-নির্বাচনের জন্যও সব ধরনের প্রস্তুতি আছে বলে জানিয়েছেন সিইসি। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে সবদল অংশ নেয়া নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন কী উদ্যোগ নেবে-জানতে চাইলে সিইসি বলেন, তারা আশা করেন নির্বাচনে সবাই অংশ নেবে। তফসিল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কমিশন আলোচনায় বসবে কি না, জানতে চাইলে সিইসি বলেন, আলোচনায় বসতেই হবে এমন না। তবে প্রয়োজনে কমিশন আলোচনায় বসবে। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আগামী অক্টোবরের মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করার জন্য সচিবালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়। ভোটার তালিকা মাঠ পর্যায়ে পাঠানো, নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়াল ও নির্বাচনী আনুষঙ্গিক কাজগুলোকে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরুর আগেই সম্পন্ন করতে চায় কমিশন। আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে ৩শ’ সংসদীয় আসনের ভোটার তালিকার মুদ্রণ, ভোটকেন্দ্রের প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের খসড়া তালিকা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী বলেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কোন কথা নেই। আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে পরবর্তী বছরের ২৪ জানুয়ারি মধ্যে নির্বাচন হবে। তাই সংসদ বহাল থেকে নির্বাচন হলে সবার জন্য সমান সুযোগ রেখে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালাটি প্রণয়ন করা হবে। তবে আগামী ২৭ অক্টোবরের পরে এটি করা হবে। বৈঠকের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ বলেন, কমিশনের রোডম্যাপ অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনের কাজের অগ্রগতি নিয়ে বসেছিলাম। সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।