শ্যামনগরে আদি যমুনা নদী দখলমুক্ত

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৪৫
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে প্রবাহমান আদি যমুনা নদী দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যতম প্রধান নদী। প্রবহমান গঙ্গার ধারা সাগরে যেত যে যমুনা নদী দিয়ে সেই যমুনা নদীকে বদ্ধ দেখিয়ে এক শ্রেণীর অসত্ প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের মাধ্যমে ভূমি খেকোরা বেমালুম নদীর অস্তিত্বকে অস্বীকার করে দখলের চেষ্টা করে। কিন্তু সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন প্রগতি এর সহযোগিতায় স্থানীয় মানুষের আন্দোলনের ফলে তা প্রতিহত হয়। আজ নদীর পুরাতন স্বীকৃতি অর্জিত হয়ে আদি যমুনা নদী সাতক্ষীরার নিন্ম অঞ্চলের জলপ্রবাহের অন্যতম বাহন হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। গঙ্গার অন্যতম প্রধান শাখা ভাগিরথি প্রথমে যমুনা ও পরে আরো এগিয়ে ইছামতি নাম নিয়ে সাগর সংগমে যাওয়ার শেষ প্রান্তে এসে আদি যমুনা নাম ধারণ করে। ইছামতি ভারতের ২৪ পরগণার বশিরহাটের মধ্যদিয়ে এসে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার রাধানগর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এখান থেকে আরো দক্ষিণে এগিয়ে কালিগঞ্জের বসন্তপুর-দমদম এলাকা এসে আদি যমুনার উত্পত্তি। আদি যমুনা নদী কালিগঞ্জ-শ্যামনগর উপজেলার মধ্য প্রবাহিত হয়ে মাদার নদীর সাথে মিলিত হয় সোনাখালি এলাকায়। পরে মালঞ্চ নদীর সাথে মিলিত হয়ে সাগরে যুক্ত হয়। প্রায় ৩২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এ নদীর সাথে ৫০ টির বেশি বিল ও খালের সাথে সংযোগ রয়েছে। ইছামতি-যমুনা-মাদার ও মালঞ্চ নদী সাগর প্রবাহের ধারা। মূলতঃ উপকূলীয় পাউবো’র বেড়িবাঁধ হওয়ার আগ পর্যন্ত এ পথ দিয়ে ইছামতির মিষ্টি পানি প্রবাহ সাগরে এবং সাগেরের প্রবাহ ইছামতিতে আসা-যাওয়া করতো। এ আসা-যাওয়ার মধ্য দিয়ে নদী ও সংযুক্ত খালসমূহের নাব্যতা স্বভাবিক, পরিবেশ-সহিষ্ণু ও খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিমুক্ত ছিল। আদি যমুনা নদী হলো সবচেয়ে ঐতিহ্য ও ইতিহাস খ্যাত নদী। বারোভুঁইয়ার অন্যতম স্বাধীন নৃপতি প্রতাপাদিত্যের রাজধানী ছিল এ যমুনা নদীর কূলে। এখনও টিকে আছে নৌপ্রতাশ্রয় জাহাজঘাটা। সনাতনী ধর্ম বিশ্বাসীদের অন্যতম বৃহত্ ধর্মীয় উত্সব বারুনের স্নান এ যমুনা নদীতে হয়ে আসছে। কিন্তু উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণে প্রবহমান যমুনা নদীকে বদ্ধ খালের পরিণত করে। ইছামতির কালিগঞ্জের দমদম ও বসন্তপুর মধ্য এলাকা হতে শুরু হওয়া আদি যমুনা নদী, দু-কিলোমিটার পর নাজিমগঞ্জের পার্শ্ব দিয়ে দক্ষিণমুখো বাঁক নিয়ে শ্যামনগরের মধ্যদিয়ে সাগরমুখে ধাবিত হয়েছে। নাজিমগঞ্জের পাশ্বের এ বাঁক হতে সোজা পূর্ব দিক মুখ করে বৃটিশ সরকার ১৮ সালের মধ্যবর্তী সময়ে একটি সংযোগ খাল খনন করে। যেটি পরবর্তীতে কাকশিয়ালী নদী নামে পরিচিতি পায়। বিশেষ করে শ্যামনগর সদরের শ্মশান ও ঈদগাহর সামনের সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়ক নদীকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ব্রিজ নির্মাণ ও বাস্তবায়ন হলে সাগরের সাথে ইছামতি প্রবাহ আদি যমুনা নদীর সাথে সংযুক্ত হবে। ইছামতি ও আদি যমুনা নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক হলে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জলাবদ্ধতা নিরসন, খাদ্য নিরাপত্তা সৃষ্টি, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ব্যবসায়িক ধারার উন্নয়ন ঘটবে। নাজিমগঞ্জের পার্শ্বের স্লুইজ গেটটি পরিবর্তন করে জোয়ার-ভাটার প্রবাহ বাধামুক্ত করা। শ্যামনগর শ্মশানের সামনের সড়কে ব্রীজ নির্মাণ করে ইছামতি-আদি যমুনা-মাদার নদী সংযোগ সচল করে সাগরে যুক্ত করা। নদীর সীমানা চিহ্নিত করা ও নদীর বন্দোবস্ত বাতিল করা স্থানীয় মানুষের দাবি।