অবহেলিত মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে ‘উত্তরণ’

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৪৮
‘উত্তরণ’ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বৃহত্ বেসরকারি সংস্থা। ১৯৮৫ সালে সংস্থাটি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জাতপুর গ্রাম থেকে যাত্রা শুরু করে। আজ তা দেশের ৮টি জেলা যথা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, পটুয়াখালী, বরগুনা, জামালপুর ও রাজশাহী জুড়ে বিস্তৃত। উত্তরণ খুলনা ও সাতক্ষীরায় দু’টি আঞ্চলিক অফিস এবং ২৮টি কেন্দ্র দ্বারা সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর প্রধান কার্যালয় ঢাকায়। এছাড়াও পরিবেশগত দুর্যোগকালে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়মিত কর্মকান্ডের বাইরেও বিস্তৃত। ‘বিষয়ভিত্তিক প্রচারাভিযান’ তথা অ্যাডভোকেসী কার্যক্রম রয়েছে গোটা উপকূল জুড়ে। একাধিক আর্থ সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডের পাশাপাশি সংস্থাটির রয়েছে বিবিধ নেটওয়ার্কিং কার্যক্রমসমূহ। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক শহিদুল ইসলামের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ‘উত্তরণ’ ক্রমাগত সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। বিগত প্রকল্পসমূহ সফলতার সাথে সম্পন্নের পাশাপাশি উত্তরণ নতুন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্যে দাতা সংস্থার নিকট থেকে অব্যাহত সহায়তা পাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ২০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ‘উত্তরণ’। খুলনা ও সাতক্ষীরায় দু’টি আঞ্চলিক অফিস এবং ২৮টি কেন্দ্র দ্বারা সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর প্রধান কার্যালয় ঢাকায়। উত্তরণের ২৮৯৯টি প্রাথমিক দল গঠিত হয়েছে। এই দলগুলোয় মোট সদস্যসংখ্যা ৬৬,৯৭৯ জন। এরমধ্যে সিংহভাগ সদস্যই নারী। প্রাথমিক সংগঠনগুলোর সদস্যের আয় বৃদ্ধির জন্যে উত্তরণ সংগঠনভুক্ত সদস্যের মাঝে ঋণ বিতরণ করে থাকে। ঋণগ্রহীতারা বিবিধ আয়মূলক কাজ করে তাদের জীবন-জীবিকার ধরন পাল্টে ফেলেছে। উত্তরণ এই লক্ষ্যে দু’টো প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছে। একটি আপার এবং অন্যটি সেপটি। আপার প্রকল্পে ২০১১-১২ অর্থ-বছরে ১২১৭ জন ভূমিহীনকে ৪৮৮.০২ একর ভূমি বরাদ্দ দিতে সক্ষম হয়েছে। ৩১৪ পরিবারকে ১৫২.২১ একর ভূমি স্থায়ী বরাদ্দ পেতে সহযোগিতা করা হয়েছে। খাস কৃষিজমি ও জলাশয় এবং সম্পদ হস্তান্তর হতে পারে দারিদ্র্য দূরীকরণের একটি প্রধানতম হাতিয়ার। যার উপর ভিত্তি করে বাস্তবায়িত হচ্ছে সেপিট প্রকল্প। প্রকল্পটি শুরু হয় ২০০৯ সালের এপ্রিল মাস থেকে, যা চলবে ২০১৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত। এ প্রকল্পের আওতায় ২৭,০০০ অতিদরিদ্র ভূমিহীন পরিবার উপকৃত হবে, যার মধ্যে আছে নারী প্রধান পরিবার, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সমপ্রদায়, দিনমজুর ও প্রতিবন্ধী পরিবার। উত্তরণ আরও দশটি সমমনা এনজিওকে সাথে নিয়ে সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, পাবনা ও রাজশাহী জেলার ১২ উপজেলাধীন ৭২টি ইউনিয়নের ৭৪৬টি গ্রামের ২৯ হাজার ২৩০টি ভূমিহীন পরিবারকে সরকারি খাসজমি ও জলমহাল এ অভিগম্যতা বা অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে। এছাড়া উত্তরণ ৭টি উপজেলায় সরাসরি ৯টি কেন্দ্র অফিস এবং স্থানীয় পর্যায়ের ১০টি সহযোগী উন্নয়ন সংগঠনের মাধ্যমে ১২টি উপজেলার মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। উত্তরণ তার সামগ্রিক কর্মকান্ডে নারীর উপর লাঞ্ছনার প্রতিবাদ ও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিষয়টি খুবই গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আমাদের দেশের নারীরা পরিবারের বিভিন্ন স্তরে নানাভাবে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়। নির্যাতনের শিকার এ নারীদের এ থেকে পরিত্রাণের কথা বিবেচনা করে উত্তরণ তাঁদের পাশে দাঁড়ায়। সুদীর্ঘ সময় ধরে গ্রামীণ জনপদে কাজ করতে গিয়ে উত্তরণ লক্ষ্য করেছে যে, কৃষি প্রধান এ দেশে দরিদ্র মানুষের প্রধানতম সমস্যা খাদ্য সংগ্রহের অসামর্থ্যতা। এই অসামর্থ্যতা আরও তীব্র হয় সংকটকালীন বা আপত্কালীন সময়ে। হতদরিদ্র মানুষের মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে এবং আপত্কালীন সময়ে খাদ্যের যোগান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উত্তরণ চলমান উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি দরিদ্র ও হতদরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য ঋণ বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এতে, একদিকে দরিদ্র ও হতদরিদ্র মানুষের খাদ্য সংকট যেমন মোকাবেলা করা যাবে, আবার তাদের পুষ্টি চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হবে। উত্তরণ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের ৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২৫ হাজার ৫৮৭ জন ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে প্রতি স্কুলদিবসে উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রতিদিন ৭৫ গ্রাম করে পুষ্টিসমৃদ্ধ বিস্কুট বিতরণ করে থাকে। উত্তরণ শিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বেশ কয়েকটি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে উত্তরণ। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলায় ‘আটশত বিঘা নন-রেজিস্টাড প্রাথমিক বিদ্যালয়, তালা উপজেলা সদরে ‘শিশুতীর্থ’ নামের একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল, ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মহাবিদ্যালয়’, জাতপুরে ‘সমকাল মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠ’, দেবহাটার পারুলিয়াতে একটি ট্রেড স্কুল এবং ডুমুরিয়ার চুকনগরে একটি ট্রেড স্কুল। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন সরকারি বিধি মোতাবেক পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত।