সুন্দরবনে প্রবেশ করতে হলে নৌকাপিছু গুনতে হচ্ছে পনের হাজার টাকা। টাকার অংক ধার্য করা হয়েছে মাত্র আগামী তিন মাসের জন্য। অবস্থাভেদে অপেক্ষাকৃত ছোট আকৃতির নৌকার জন্য ধার্যকৃত টাকার অংক দশ হাজার। আর বনে প্রবেশের আগেই দস্যু বাহিনী নিযুক্ত এজেন্টদের হাতে উঠিয়ে দিতে হচ্ছে নির্দিষ্ট অংকের ঐ টাকা।
তবে কোনভাবে টাকা লেনেদেনের ঘটনা জানাজানি হলে সংশ্লিষ্ট জেলের আর রক্ষা নেই। সেখানেই তার বনে যাওয়ার জীবন শেষ করতে হচ্ছে। এমন অবস্থা চলছে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকাজুড়ে। বিশেষ করে মামুন্দো এবং রায়মঙ্গল নদী থেকে কাছিকাটা, তালপট্টি, পথিমধ্যে ছায়া, গাড়াল, আঠারবেঁকী এলাকায় মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা এ অবস্থার শিকার হচ্ছে।
সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া শিকারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত অসংখ্য জেলের সাথে কথা বলে জানা গেছে এসব কথা। ইতিমধ্যে ফজলু গাজী, খোকন সরদার, কালু গাজীসহ শত শত জেলে বনে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে শুধুমাত্র বনদস্যুদের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে।
এখন যারা বনে যাতায়াত করছে তারাও চরম আতংকের মধ্যে থেকেও শুধুমাত্র জীবন বাঁচিয়ে রাখার তাগিদে চাঁদার টাকা পরিশোধ করছে, কিন্তু কোনক্রমেই মুখ খুলছে না। যারা খুলছে তারাও শর্ত জুড়ে দিচ্ছে নাম পরিচয় গোপন রাখার জন্য।
