চাটমোহর রেল স্টেশন। নানা অপরাধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ট্রেনের টিকেট কালোবাজারি, ট্রেনের তেল চুরি, স্টেশন সংলগ্ন হোটেলে দেহ ব্যবসা, জুয়া খেলা আর মাদকদ্রব্যের প্রকাশ্য বেচাকেনা চলছে। শুধু থানা পুলিশই নয়, এ সকল অপরাধের সাথে জড়িতরা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে অসামাজিক কাজ ও অপরাধ সংঘটিত করে চলেছে। এলাকাবাসী এখন আর অভিযোগ করার কোন জায়গা খুঁজে পাচ্ছেন না। কারণ, কোন অভিযোগই আমলে নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ব্যবস্থা নেয়া তো দূরে থাক। এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে এলাকাবাসী বিক্ষোভ সমাবেশ পর্যন্ত করেছেন। এ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে এলাকাবাসী জানান, র্যাবের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা রয়েছে। র্যাব যদি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় তাহলে হয়তো অপরাধের মাত্রা কমতে পারে। চাটমোহর রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর সকল ট্রেনের টিকেট কালোবাজারি চলছে প্রকাশ্যে। যাত্রীরা কাউন্টার থেকে কোন টিকেট পান না। কারণ সেখানকার সকল টিকেট অনেক আগেই বিক্রি হয়ে যায় কালোবাজারিদের কাছে। কালো বাজারিদের সাথে আঁতাত রয়েছে পকেটমার আর অজ্ঞান পার্টি চক্রের—এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। স্টেশন মাষ্টার ফজের আলী টিকেট কালোবাজারির কথা স্বীকার করে বললেন, বুকিং ক্লার্করাই যেন কালোবাজারি হয়ে গেছে। চাটমোহর থেকে ঢাকা যেতে একটি টিকেটের দাম ২৫০ টাকা, অথচ নেয়া হচ্ছে ৩৫০ টাকা। স্টেশন এলাকায় কোন অপরাধের ঘটনা ঘটলে থানায় এসে তদবির করেন টিকেট কালোবাজারির মূল হোতা মহেষপুর গ্রামের লিটন। অপরদিকে ট্রেনের তেল চুরি চক্রের হোতা কালাম ও জাহিদ এখন প্রকাশ্যে তেল চুরি করে চলেছে বলে অভিযোগ।
ট্রেনের টিকেট কালোবাজারি ও ট্রেনের তেল চুরির ব্যাপারে চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান মুন্সি জানান, টিকেট কালোবাজারি হয় শুনেছি। যেহেতু সেটা রেলওয়ে থানার আওতায়। আমরা কিছু করতে পারি না। আমি নিজেও টিকেট পাই না। ট্রেনের তেল চুরির ঘটনা সম্পর্কে আমার জানা নেই।
