চকরিয়ায় বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:২২
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্ক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে লাগামহীন অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও কর্তব্যকাজে অবহেলার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। চরম অব্যবস্থাপনার কারণে পার্কের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। অর্ধাহারে, অনাহারে অনেক পশু-পাখি মারা যাচ্ছে। নানা রোগে আক্রান্ত জীবজন্তুগুলোর সুচিকিত্সা হচ্ছে না। পার্কটি স্থাপনের পর প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে যে সব স্থাপনা নির্মিত হয়েছিল সেগুলো সংস্কারের অভাবে শ্রীহীন হয়ে পড়েছে। ফলে দর্শনার্থীদের সংখ্যা দিন দিন কমছে। পর্যটন শহর কক্সবাজারে বেড়াতে আসা হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক পার্কে এসে অনেক সময় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারীদের দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় কিছু উঠতি বয়সী মাস্তান যুবকদের হাতে মহিলা দর্শনার্থীরা পদে পদে ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছেন। এ ব্যাপারে পার্ক কর্তৃপক্ষ যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় মাস্তানেরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পার্কের এক কর্মকর্তা জানান, পশু-পাখির খাদ্য সরবরাহের জন্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিবছর এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার পার্ক কর্তৃপক্ষের সিডিউল মোতাবেক খাদ্য সরবরাহ না করে সিংহভাগ টাকা আত্মসাত্ করছে। ফলে খাদ্যাভাবে পশু-পাখিগুলো দুর্বল হয়ে মরে যাচ্ছে। এছাড়া পশু-পাখির চিকিত্সার জন্য বরাদ্দ দেয়া অর্থও ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। বিগত ২০১২-১৩ অর্থ বছরে পার্কের কয়েকটি অবকাঠামো নির্মাণখাতে বরাদ্দ দেয়া হয় প্রায় এক কোটি টাকা। ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করে বরাদ্দকৃত টাকার সিংহভাগ অংশ সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তার সাথে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পার্কটি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর প্রতিবছর এর গেটটি টেন্ডারের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলকভাবে ইজারা দেয়ার নিয়ম থাকলেও চলতি বছরে পার্কের গেট ইজারা দেয়ার জন্য বেশ ক’বার দরপত্র আহ্বান করেও কর্তৃপক্ষ পূর্ববর্তী বছরের সমমূল্যে কোন ঠিকাদার না পাওয়ায় গত ১জুলাই থেকে নিজেরাই টিকেট বিক্রির দায়িত্ব নিয়েছে। টিকেট বিক্রি ও পার্কের সম্মুখস্থ গাড়ি পার্কিংয়ের টোল আদায়ের টাকা নিয়েও হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী জানান, সাফারী পার্ক প্রতিষ্ঠার পর প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীর পদচারণায় পার্ক এলাকা মুখরিত থাকলেও বর্তমানে সে দৃশ্য আর চোখে পড়ে না। বেশিরভাগ বন্যপ্রাণী ও পাখির খাঁচা শূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে দর্শনার্থীরা প্রতিনিয়ত পার্কে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন। পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ.বি.এম জসিম উদ্দিন বলেন, পার্কের উন্নয়নের জন্য যে এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়, তার মধ্যে পাখিশালা ২নং সেট নির্মাণ খাতে ১৩ লাখ টাকা, হরিণ বেষ্টনী নির্মাণের জন্য ৫০ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ৩০০ মিটার রাস্তা সংস্কারের জন্য ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। ঐ কর্মকর্তা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সিডিউল মোতাবেক এসব উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করে ইতিমধ্যে ঠিকাদার কাজের বিপরীতে বিলও উত্তোলন করে নিয়েছেন। ঠিকাদার সামশুদ্দিন মাহমুদ লিটনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে দুর্নীতির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হরিণ বেষ্টনীর নির্মাণ কাজে কোন প্রকার অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি। অথচ সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, অতি নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে পাখিশালা ২নং গেট, ৩০০ মিটার রাস্তা সংস্কার কাজ নামমাত্র সম্পন্ন করা হলেও হরিণ বেষ্টনীর নির্মাণ কাজ এখনও শেষ হয়নি। এছাড়া বিনা টেন্ডারে ২৫টি মডেল ম্যুরাল নির্মাণ ও ৫ হেক্টর জমি বনায়নের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন।