তিস্তায় ভাঙ্গনে বসতভিটা ও ফসলি জমি বিলীন

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:০০
তিস্তা নদীর পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন। গত কয়েক দিনে সব চেয়ে বেশি ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী এলাকায়। গতকাল বৃহস্পতিবার তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে ধুবনী গ্রামের ২০টি বসতভিটাসহ প্রায় ১৫ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এদিকে ভাঙ্গন রোধে সরকারিভাবে তেমন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় নদী ভাঙ্গনের শিকার পরিবারগুলোর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় লোকজন নিজ উদ্যোগে বাঁশের খুঁটি, বালির বস্তা ফেলে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা চালাচ্ছেন। হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান ভেলু জানান, নদী ভাঙ্গনের বিষয়টি একাধিক বার পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তিনি আরও জানান, উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে সাময়িকভাবে এ ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি বিপদ সীমার কাছাকাছি ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, ঈশ্বরদীর পাকশীস্থ পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি বেড়ে বিপদ সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। গত কয়েকেদিন ধরেই পানি বেড়েই চলেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় গেয়ে দেখা যায় ১, ২ ও ৩ নং স্প্যানের নিচের দীর্ঘ চর ডুবে গেছে। পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় সাঁড়া ও লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী লোকজন চরম আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিপদসীমা অতিক্রম করলে এই এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গত ২৪ ঘন্টায় পদ্মায় ৫ সেন্টিমিটার এবং মহানন্দায় ৬ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। পদ্মা ১১ এবং মহানন্দা বিপদসীমার ১৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে সাহেবের ঘাটে নির্মাণাধীন দ্বিতীয় মহানন্দা সেতুর নির্মাণ কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী কার্যালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিপাকে পড়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন জেলা প্রশাসক সরদার সরাফত আলী। এসময় তিনি জানান, সদর উপজেলায় ২৩ হাজার ৫১৮ জন এবং শিবগঞ্জ উপজেলায় ২০ হাজার মানুষ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। পদ্মায় ভাঙ্গন অব্যাহত মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ‘আল্লাহ্ অহন আমরা কই জামু। যাওনের জায়গা নাই। তাই বাড়ীঘর ভাইঙ্গা কোন রহমে ৫ দিন সড়কের ধারে আছি। শুনলাম সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ দিবো; কিন্তু এখনো কিছুই পাই নাই । কয়েক যুগ ধরে মাওয়ার পদ্মা তীরে বসবাস করা বৃদ্ধা ইয়ারন বেগম এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন। রাক্ষুসী পদ্মা তার সব কিছুই গিলে খেয়েছে। একই অবস্থা ষাটোর্ধ্ব আনোয়ারা বেগমের। পরিবারের ১১ সদস্য নিয়ে নদী তীরে খোলা আকাশের নিচে কোন রকমে দিন কাটাচ্ছেন। বিমর্ষ স্বরে তিনি জানান, যাওনের জায়গা নাই। ঝুঁকি নিয়ে পদ্মাপাড়েই থাকছি। রাতে নদী তীরে ফাটলের কাছেই মাটিতে থাকা সী-বোটের ওপর ছেলেরা নির্ঘুম রাত কাটায় । একইরকম কথা বললেন, নদী ভাঙনের শিকার বিনোদ খা, মতি ফকির, মাসুদা বেগম, আব্দুর রহমান তালুকদার, জয়নাল মৃর্ধাসহ আরো অনেকে। তারা জানান, তাদের মতো আরো শতাধিক পরিবার যাওয়ার জায়গা না পেয়ে আশপাশের সড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। সরেজমিন দেখা গেছে, পদ্মায় এখনো তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙন এলাকা ও সড়কের বিভিন্ন অংশে নতুন নতুন করে ফাটল দেখা দিচ্ছে। ফেরিঘাট এলাকার মূল সড়কে ৮/১০টি ফাটল ধসে পদ্মা গর্ভে চলে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে বুধবার বিকালে মাওয়া ৩নং ফেরিঘাটের পাশে প্রায় ৩০ ফুট এলাকা নিয়ে গোলাম কুদ্দুস গংয়ের বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।