সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় গত বুধবার রাতে দুই স্বর্ণ ব্যবসায়ী, এক ঝুট ব্যবসায়ী ও এক শিক্ষকের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। রাতে মুষলধারে বৃষ্টির সময় ডাকাতরা নির্বিঘ্নে তিনটি বাড়িতে লুটপাট চালায়। তবে স্কুল শিক্ষকের বাড়িতে প্রতিরোধের মুখে পড়ে ককটেল ফাটিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ জনকে আটক করা হয়েছে ।
এদিকে শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ায় একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় আতংকিত হয়ে পড়েছে জনগণ। ডাকাতদের ভয়ে অনেক এলাকায় রাত জেগে পাহারার পাশাপাশি এলাকাবাসী নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানান, বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই সাভারে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এ সুযোগে রাত ৮ টার দিকে সাভার মডেল থানার পাশে দক্ষিণ পাড়ার স্থানীয় প্রদীপ জুয়েলার্সের মালিক প্রদীপ কুমার দাস ও তার ভাই লক্ষী জুয়েলার্সের মালিক দীপক কুমার দাসের বাড়িতে (পাশাপাশি অবস্থিত) ১৫/২০ জনের সশস্ত্র ডাকাত দল হানা দেয়। তারা বাড়িতে ঢুকে পরিবারের নারী সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে ফেলে। ডাকাতরা বাড়িতে প্রবেশ করার ২০/২৫ মিনিট পর গৃহকর্তা প্রদীপ কুমার দাস ও তার ভাই দীপক বাড়িতে প্রবেশ করলে কিছু না বোঝার আগেই ডাকাতরা তাদেরও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। এরপর ডাকাত দল প্রায় ২ ঘন্টা ধরে ৩ টি সিন্ধুক, ৩ টি কাঠের আলমারি ও স্টিলের আলমারি ভেঙ্গে ৫শ’ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৮ লাখ টাকা লুট করে নেয় বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।
এদিকে ডাকাতির সময় চিত্কার দিতে চেষ্টা করলে ডাকাতদের হাতে থাকা রিভলবারের আঘাতে দীপকের স্ত্রী পূর্ণিমা মারাত্মক আহত হন। প্রদীপ কুমার দাসকেও মারধর করে ডাকাতরা। পরে রাত ১০ টার দিকে লুণ্ঠিত মালামাল নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। ডাকাতদের অধিকাংশের বয়সই ২৫/৩০ বছর এর মধ্যে এবং তাদের পরনে কালো পোশাক ছিল বলে জানিয়েছেন গৃহকর্তা প্রদীপ কুমার দাস।
খবর পেয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ডাকাত দলকে খুঁজে বের করার আশ্বাস দেন। সাভার থানা ও ডিবি পুলিশ যৌথভাবে রাতেই অভিযান চালিয়ে এলাকার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সাভার ব্যাংক কলোনির মো.কাশেম মিয়ার ছেলে সোহেল (২৬), হাসেম মিয়ার ছেলে আমিনুর (২৭), দক্ষিণ পাড়ার লুত্ফর হোসেনের ছেলে রানা (৩০) ও ফেনীর ছাগলনাইয়া ইজ্জতপুরের শেখ আহম্মেদের ছেলে আনোয়ারকে (৩০) আটক করে।
এ ঘটনায় প্রদীপ কুমার দাস বাদি হয়ে সাভার মডেল থানায় ডাকাতির মামলা দায়ের করেন। তবে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে মামলাটি ঢাকা জেলা ডিবি পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলা ডিবি পুলিশের ওসি শাহীন শাহ্ পারভেজ বলেন, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আটককৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছিল।
অন্যদিকে গভীর রাতে আশুলিয়ার গাজিরচট বসুন্ধরা নামক স্থানে ঝুট ব্যবসায়ী মোবারক হোসেনের বাড়ির কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে একদল ডাকাত। পরে ৪ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ টাকা লুট করে। গৃহকর্ত্রী শেফালির কানের দুল ছিনিয়ে নেয়ার সময় বাধা দিলে ডাকাতরা তাকে মারধর করে।
এছাড়া একই রাতে আশুলিয়ার ডেন্ডাবর মহল্লার পূর্ব পাড়ার এক শিক্ষকের বাড়িতে হানা দেয় ডাকাত দল। পরিবারের লোকজনের চিত্কারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ৬টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
