বেকায়দায় রপ্তানিকারকরা

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫২
মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রা রুপির দাম কমতে থাকায় সেদেশের রপ্তানিকারকরা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। ঠিক উল্টো কারণে অর্থাত্ ডলারের বিপরীতে টাকার মান শক্তিশালী হওয়ায় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা। এক বছরের ব্যবধানে ভারতের রপ্তানিকারকরা ডলারের বিপরীতে ২৫ শতাংশ বেশি রুপি পাচ্ছেন (আগের ৫৮ রুপির স্থলে এখন পাচ্ছেন ৬৮ রুপি বেশি)। অপরদিকে গত এক বছরে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম তিন শতাংশেরও বেশি কমেছে। অর্থাত্ এক বছর আগে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা এক ডলারের বিপরীতে ৮৫ টাকা পেলেও এখন পাচ্ছেন ৭৭ টাকার কিছু বেশি। ফলে তারা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছেন। শুধু রপ্তানিকারকরাই নয়, ডলারের বিপরীতে টাকা এবং রুপির মানের ব্যবধান বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের প্রবাসীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ভারতের একজন প্রবাসী এখন রেমিট্যান্স পাঠিয়ে আগের চেয়ে বেশি রুপি পাচ্ছেন। অপরদিকে বাংলাদেশের প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে আগের চেয়ে অনেক কম টাকা পাচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের আমদানিকারকরা একটু সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলেও ভারতের চিত্র একেবারে উল্টো। সেখানকার আমদানি ব্যয় বেড়ে গিয়ে ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত একবছরে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম তিন শতাংশেরও বেশি কমেছে। রপ্তানি আয়ের হিসাব করলে এ খাতে রপ্তানিকারকরা একমাসে লোকসান দিয়েছেন ৩২০ কোটি টাকা। টাকার মান বেড়ে যাওয়ায় যেসব রপ্তানিকারক কাঁচামাল আমদানি করে পণ্য রপ্তানি করেন তাদের লোকসান কম হলেও পণ্য রপ্তানিতে শতভাগ দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহারকারীদের লোকসান হচ্ছে বেশি। গতকাল আন্তঃব্যাংক লেনদেন প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ৭৭ টাকা ৭৫ পয়সায়। উল্লেখ্য, এক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও এখন তা আর করা যায় না। ২০০৩ সাল থেকে বাজারে ভাসমান মুদ্রা বিনিময় হার বা ফ্লোটিং এক্সচেঞ্জ রেট চালু আছে। এ ব্যবস্থায় বাজারের চাহিদা এবং যোগানের ভিত্তিতে ডলারের দাম আপনাআপনিই নির্ধারিত হয়ে যায়। তবে, ডলারের বাজার অস্থিতিশীল হলে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে বা ছেড়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করে। এদিকে, গত এক বছরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপি ২৫ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতের পুঁজিবাজার থেকে অর্থ তুলে নিয়ে নিজের দেশে ডলার আকারে তা পাঠিয়ে দেয়ার কারণেই রুপির এ দরপতন। রুপির দরপতনের কারণে আমদানি করা বিভিন্ন কাঁচামাল এবং বিদেশি ঋণের সুদ বাবদ ভারত সরকারকে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। এতে করে সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। এদিকে রুপির অব্যাহত দরপতনে ভারত সরকার শেষ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। তবে রুপির দাম পড়তে থাকায় সেখানকার রপ্তানিকারকরা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। আগে এক ডলারের বিপরীতে সেখানকার রপ্তানিকারকরা ৫৮ রুপি পেলেও এখন তারা পাচ্ছেন ৬৮ রুপির বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন বলেছেন, ভারত ইচ্ছে করেই রুপির মান কমাচ্ছে। তিনি বলেন, উভয় দেশের মুদ্রারমান বর্তমানে প্রায় সমপর্যায়ে চলে এসেছে। ফলে রপ্তানি বাজারে ভারতের কাছে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত। এ অবস্থা স্থির থাকলে আগামী ৬ মাসে বাংলাদেশ ভারতের কাছে বাজার হারাবে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষনের চেয়ারপার্সন রাশেদ আল মাহমুদ তীতুমীর বলেন, রুপির দরপতনের ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। একদিকে ভারতে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে কিছু অশুল্কগত বাধা আছে। এর সাথে যদি মুদ্রার বিনিময় হারের এমন অবস্থা হয় সেক্ষেত্রে সুবিধা পাবে ভারতের রপ্তানিকারকরা। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো রুপির দরপতনের কারণে ভারতের রপ্তানিকারকরা বাংলাদেশের চেয়ে সুবিধাজনক মূল্যে পণ্য রপ্তানি করতে পারবে। এটি বাংলাদেশকে সংকটে ফেলবে। বাংলাদেশ এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুস সালাম মূর্শেদি বিদ্যমান পরিস্থিতিতে রপ্তানিকারকদের জন্য নীতি সহায়তার দাবি করেন।