পদ্মা সেতু দুর্নীতির ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান দালিলিক প্রমাণ রমেশের ডায়েরি বাস্তবে একটি ডেস্ক ক্যালেন্ডার। আর ওই ক্যালেন্ডারের পাতায় বেশ কয়েকজনের নাম লেখা ছিল বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। এ ছাড়া এ সময় তিনি পদ্মা সেতু দুর্নীতির তদন্তের অগ্রগতি ও মামলার ভবিষ্যত্ নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন।
কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগের কাজ পাইয়ে দিতে এসএনসি লাভালিন কর্মকর্তা রমেশ সাহার ডায়েরিতে ঘুষের তালিকা ছিলো বলে অভিযোগ থাকলেও বাস্তবে তার ডায়েরি ছিলো না। রমেশের ডায়েরি হিসেবে যেটি উল্লেখ করা হয়েছে সেটি একটি ডেস্ক ক্যালেন্ডার। আর ওই ক্যালেন্ডারের পাতায় কিছু নাম লেখা ছিলো।
পদ্মা সেতু দুর্নীতির তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান বলেন, এ মামলার বাস্তব ফল নিয়ে আমি সন্দিহান। পদ্মা সেতু দুর্নীতির ষড়যন্ত্র মামলাটি একটি ভিন্নধর্মী মামলা। তিনি বলেন, কানাডা যাওয়ার জন্য দুদকের আইন উপদেষ্টা অ্যাড. আনিসুল হক ভিসার আবেদন করেছেন। ওই দেশের মামলার রায়ের ওপর নির্ভর করছে পদ্মা সেতু মামলার ভবিষ্যত্। মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা আমাদের ওই দালিলিক প্রমাণ দেবে না। ডায়েরি বা দালিলিক প্রমাণ ছাড়া মামলার তদন্তের আর কোন উপায় নেই। ঘুষের তথ্য সম্বলিত রমেশের ডায়েরি ছাড়া এই মামলার তদন্ত অসম্পন্ন থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দুদক সূত্র জানায়, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর কানাডার আদালতে বিশ্বব্যাংকের দায়েরকৃত দুর্নীতি মামলাটি উঠবে। আর ওই সময় দুদকের আইন উপদেষ্টা উপস্থিত থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাবেন। তবে এর আগেও দুর্নীতি মামলার আসামি রমেশ ও ইসমাইলকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং রমেশের ডায়েরির অনুলিপি সংগ্রহের চেষ্টায় গত মে মাসে দুদকের উপ-পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মীর্জা জাহিদুল আলম এবং আইন উপদেষ্টা অ্যাড. আনিসুল হক কানাডা সফর করেন। ওই সফরের কোন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না থাকায় আইন উপদেষ্টাকে আবারো কানাডা সফরে পাঠাবার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
