মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব বনগ্রাম এলাকায় বৃহস্পতিবার তিন ম্যাজিস্ট্রেটের ভুলে ৪টি বসতঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই পরিবারের লোকজন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। তারা শুক্রবার কালকিনি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ও জেলা প্রশাসকের কাছে ওই ম্যাজিস্ট্রেটদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।
পূর্ববনগ্রাম মৌজায় বি.আ.এস ৫০নং খতিয়ানে ৩২৬, ৩২৮, ২২৯ ও ৪১৭নং দাগে ৪০ শতাংশ জমি নিয়ে মোকসেদ হাওলাদারের ছেলে কাশেম হাওলাদার, সিদ্দিক হাওলাদার ও জাফর হাওলাদারের ছেলে মনসুর হাওলাদারের সাথে একই এলাকার লালু চৌকিদারের ছেলে চেহার আলী চৌকিদারের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে দেড় বছর আগে চেহার আলী চৌকিদার দেওয়ানি আদালতে মামলা করেন। ওই জমিতে আদালতের নির্দেশ ছাড়া অনুপ্রবেশ না করতে কাশেম হাওলাদারের পক্ষকে গত ২ মে নির্দেশ দেন বিচারক। পরে কাশেম হাওলাদার প্রতিপক্ষের সাথে জমি বন্টন করার জন্য কালকিনি সহকারি জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। ১ জুলাই আদালত ওই জমিতে কেন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে না তা আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে চেয়ারআলীর পক্ষকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন।
জেলা প্রশাসক নুর-উর-রহমানের কাছে দেয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আদালতের ওই মোকদ্দমা ও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার কথা গোপন রেখে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ ফারুক আহমদ, মাহফুজুর রহমান ও তাসলিমা বেগম উপস্থিত হয়ে বসতঘর উচ্ছেদ করেন। উচ্ছেদে বাধা দিতে গেলে জোরপূর্বক তাদেরকে চেহার আলীর পক্ষের লোকজন ঘর থেকে বের করে দেয়। এ সময় উর্মি বেগম, টুনু বেগম, লিজা, আরমান, সাবিনা, সাকিল ও ইমরান আহত হয়।
কাশেম হাওলাদার সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, কেন যে হঠাত্ করে ম্যাজিস্ট্রেটরা ঘর ভাঙতে আসলো তা জানিনা। ভাঙ্গার আগে তাদেরকে আদালতের রায়ের কাগজ বারবার দেখাতে চেয়েছি। তারা তা না দেখেই ঘর ভেঙ্গে দেয়।
ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) সৈয়দ ফারুক আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ পেয়েই ঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদের শেষে তারা আদালতের মামলা ও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার শুনানীর কাগজপত্র দেখাতে পেরেছে।’
