কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর গ্রামের প্রবাসী কাঞ্চন মিয়ার কন্যা স্কুল ছাত্রী রূপসী মৌসুমিকে (২০)কে মুঠোফোনে প্রেমের খেসারত দিতে হলো জীবন দিয়ে। শুক্রবার সরজমিনে মৌসুমির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তার মা মল্লিকা বেগম (৬০), কান্নায় বার বার মুর্ছা যাচ্ছিল। গ্রামের শত শত মানুষ এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চায়।
জালালপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী মৌসুমির বিয়ে হয় গত ২ বছর পূর্বে পার্শ্ববর্তী গ্রাম দশপাখীর ফজলু মিয়ার সহিত। বিয়ের এক বছর পর এই সংসার ভেঙ্গে যায়। এরই মাঝে এক যুবকের সাথে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়। অত:পর মোবাইল ফোনে প্রেম। অবশেষে গত ২২ জুলাই বিকালে বাড়ির কাউকে না বলে প্রেমিকের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। সঙ্গে আড়াই ভরি ওজনের স্বর্ণ অলংকার ও নগদ পঁচিশ হাজার টাকা নিয়ে যায়। মৌসুমির মা বহু খোঁজাখুঁজি করেও তার কোন সন্ধান পায়নি। তার ব্যবহারিত মুঠোফোন যাহার নম্বর ০১৯৩২২০৯৩৯২ বন্ধ পায়। গত ২০ আগস্ট একটি মুঠো ফোন থেকে মৌসুমির মার নিকট ফোন আসে এবং তাকে জানানো হয় যে, মৌসুমিকে পেতে হলে দশ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। বিষয়টি লোকজন কিংবা পুলিশকে জানালে মৌসুমিকে খুন করা হবে। বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা পাঠানোর কথা বলা হয়। মৌসুমির মা টাকা যোগার করতে ব্যর্থ হয়। এরপর ২২ আগস্ট জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার পুলিশ দিগম্বরদি নাম স্থান থেকে ভোরে অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে। লাশের মুখমন্ডলে আঘাতের চিহ্ন ও গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল। লাশ উদ্ধারের পর গত ৩ সেপ্টেম্বর মৌসুমির মা লোকমারফত খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানায় যায় এবং মেয়ের জুতা, জামাকাপড় ও লাশের ছবি দেখে মেয়েকে সনাক্ত করে। পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের পর ময়না তদন্ত শেষে বেওয়ারিশ লাশ হিসাবে কিশোরগঞ্জ সরকারি কবর স্থানে দাফন করে। পাকুন্দিয়া থানার ওসি জানান, পুলিশ বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আহত বিএনপি নেতার মৃত্যু
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও ইউনয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও প্রাক্তন ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম রতন ভূঞাকে (৪৪) ২৯ আগস্ট রাতে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা হামলা করে গুরুতর আহত করে। তারপর তাকে ঢাকা শ্যামলীতে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় চিকিত্সাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে সে মারা যায়। শুক্রবার তার লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়। উক্ত ইউনিয়নের ভাট্টা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ফুরকান মিয়ার বাড়ির নিকট রাস্তায় অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। ৩০ আগস্ট নিহতের ভাই আনার ভূঞা বাদি হয়ে ফুরকান মিয়া (৪০), জমসেদ ভূঞা (৫৮), আহাম্মেদ (২৫) সহ ৬জনকে আসামি করে কটিয়াদী থানায় একটি মামলা দায়ের করে। ওসি জানান, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
