আট অভিযোগে দোষী মোদি!

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৫৬
শুরু থেকেই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) সম্পর্কে সংবাদ মাধ্যম বলে আসছে, এখানে তিন ‘সি’ এর দাপট—ক্রিকেট, সিনেমা ও ক্রাইম! সেই আইপিএল বহাল তবিয়তে টিকে থাকলেও এর রূপকার ও আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম বিতর্কিত সংগঠক লোলিত মোদি বেশ কিছুদিন হল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) বিরাগভাজন হয়ে দেশ ছাড়া। মোদির বিপক্ষে নানান অভিযোগ অনেক আগে থেকে করে আসছে বিসিসিআইয়ের ক্ষমতাসীনরা। এবার সংগঠনটির তদন্ত কমিটি পরিষ্কার রায় দিয়ে দিল লোলিত মোদি আসলেই নানা ধরনের দুর্নীতি করে গেছেন ক্ষমতায় থাকতে। বিসিসিআইয়ের ডিসিপ্লিনারি কমিটির ১৩৪ পৃষ্ঠার রিপোর্ট অনুসারে আটটি ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন সাবেক আইপিএল চেয়ারম্যান লোলিত মোদি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিলেন মোদি। রিপোর্ট অনুসারে লোলিত মোদির বিরুদ্ধে আনা ১১টি অভিযোগের আটটিই প্রমাণিত হয়েছে। এগুলো হল ২০১০ সালের আসরে নতুন দুটি দলকে অবৈধ সুবিধা প্রদান, নির্বাসিত হওয়ার সময় বিদ্রোহী একটি লিগ শুরুর পরিকল্পনা করা, ভারতীয় ও ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্কের মধ্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা, এমএসএম-এর কাছ থেকে ব্রডকাস্ট রাইটের জন্য আট কোটি রুপি ঘুষ নেয়া, কোচি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নিবন্ধন বাতিলের হুমকি, আইপিএলের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে নিজের এক আত্মীয়ের শেয়ার থাকার কথা প্রকাশ না করা ও টিভি স্বত্ব নিয়ে অসাধু আচরণ। যদিও এই রিপোর্টকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন লোলিত মোদি। গত বৃহস্পতিবার তিনি অভিযোগ করে জানান, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য তাকে যথেষ্ট সুযোগ দেয়া হয়নি। লন্ডনের একটি সংবাদ ভিত্তিক চ্যানেলকে তিনি বলেন, ‘২০১০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর শুনানি শুরু হয়। এরপর ২০ মাস ধরে বিসিসিআই তাদের বক্তব্য ও সাক্ষী উপস্থাপন করে। আমি নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পাই ২০১৩ সালের তিন মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত। তারা ২০ মাস সুযোগ পেলেও আমি সেই সুযোগ পাইনি। আমি অবশ্যই আরো দুই সপ্তাহ সময় দাবি করতেই পারি।’ রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে মোদি বলেন, ‘এখানে যা বলা হয়েছে তার মতো কিছুই আমি করি নাই। নিলাম নিয়ে যতটুকু করেছি, সেটা নিজের স্বার্থে নয়, দলগুলোর স্বার্থে করেছি। আর যা করেছি সেটা বিসিসিআইয়ের আইনজীবীদের সাথে আলোচনা করেই করেছি।’ তিন সদস্যের ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে ছিলেন অরুন জেটলি, চিরায়ু আমিন ও জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। গত মঙ্গলবার এই কমিটি বিসিসিআইকে এই রিপোর্ট হস্তান্তর করেছে। আর আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর বিশেষ সাধারণ সভায় এই ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে বলে জানা গেছে। সেই সভাতেই লোলিত মোদির জন্য আজীবন নিষিদ্ধাদেশের ঘোষণা আসতে পারে। লোলিত মোদি আইপিএলের প্রথম তিনটি আসরে চেয়ারম্যান ও কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। আর ২০১০ সালের আইপিএলের সমাপনী অনুষ্ঠানের ঠিক পরপরই লিগ পরিচালনায় আর্থিক অনিয়ম ও তৃতীয় আসরে দুটি নতুন দলের সাথে অসাধু কার্যক্রমে জড়িত দেখিয়ে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।