রাজশাহীর বাঘায় বন্যার্তদের জন্য বরাদ্দকৃত ১৩ টন চালের মধ্যে ৫ হাজার কেজি চালের হিসাব নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে চাল দেয়ার কথা থাকলেও তাদের বাদ দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ঐ চালের পরিবর্তে বানভাসী মানুষের মাঝে মুড়ি বিতরণ করেন।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিস সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুকূলে ১৩ টন টেস্ট রিলিফের চাল বন্যার্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য ছাড় করা হয়। ইউএনও নিজেই ডিওতে স্বাক্ষর করেন। সেখানে ৫০ কেজি ওজনের মোট ২৬০ বস্তা চাল বহন করা হয়। তবে ইউএনও কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঐদিন সকালে তিনটি নৌকায় করে ১৬০ বস্তা চাল নিয়ে (ইউএনও) আবদুস সোবহান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নূরুল ইসলাম বন্যাদুর্গত বাঘার চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে বিতরণ করেন। অবশিষ্ট ১শ’ বস্তা চালের হিসাব দিতে পারেননি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। অভিযোগ উঠেছে, বাঘার এক পৌর কাউন্সিলর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আস্থাভাজন হওয়ায় সরকারি বরাদ্দের বাইরে তার মিল থেকে ১৬শ’ প্যাকেট মুড়ি ও চার বস্তা চিড়া নিয়ে চরের বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করেন। বিনিময়ে তার কাছে বিক্রি করেন অবশিষ্ট ১শ’ বস্তা চাল।
চরের বন্যার্ত নজরুল ইসলাম জানান, সরকার তাদের জন্য চাল পাঠালেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাদ্দ কমিয়ে ঐ চালের সাথে এক প্যাকেট করে মুড়ি ও এক কেজি করে চিড়া দিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে ইউএনও আবদুস সোবহান স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, ১৩ টন চালের সবই বিতরণ করা হয়েছে। তবে দুই নৌকায় কত বস্তা চাল নিয়ে গেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বস্তা নৌকার ওপর এলোমেলো করে সাজানো ছিল সঠিক হিসাব তিনি বলতে পারবেন না। তবে স্থানীয় এক কাউন্সিলরের মাধ্যমে তিনি ১৬শ’ প্যাকেট মুড়ি ও চার বস্তা চিড়া নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন।
