ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ ঠেকাতে হবে :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৪৯
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া কোনো শিক্ষাই পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। আমাদের ইসলাম ধর্ম অত্যন্ত পবিত্র ধর্ম। ইসলাম হচ্ছে শান্তির ধর্ম। ইসলামের প্রচার ও প্রসারে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে উন্নত মসজিদ করে দেয়া হবে। কিন্তু আমি খুব কষ্ট পাই যখন দেখি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ইসলাম ধর্মকে শান্তির ধর্ম, পবিত্র ধর্মের নাম নিয়ে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করে ইসলামেরই দুর্নাম করা হয়। যারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে চায় তাদেরকে ঠেকাতে হবে। গতকাল রাজধানীর আশকোনায় হজ্ব ক্যাম্প ও এবারের হজ্ব কার্যক্রম উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। হজ্ব ক্যাম্পে পৌঁছালে স্বাগত জানান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া। এ সময় বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আল বুশাইরি, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল ও হজ্ব অফিসের পরিচালক বজলুল হক বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হজ্ব যাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, ইসলামের নাম ব্যবহার করে যারা দেশে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে তাদের বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকাতে হবে। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির মডেল হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। এই ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া কোনো শিক্ষাই পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। আর সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা শিক্ষানীতি গ্রহণ করেছি। পার্থিব শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষা যেন আমরা নিতে পারি সে পদক্ষেপ নিয়েছি। ইসলাম হচ্ছে শান্তির ধর্ম। আর সে জন্য আমাদেরকে অবশ্যই নৈতিক শিক্ষায় বলিয়ান হতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি পর্যায়ে সর্বপ্রথম আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে আমাদের সরকার ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে আরবি, বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় পবিত্র কোরআনের প্রচার ও প্রসারের ব্যবস্থা করেছে। সে সাথে বিদেশে অবস্থানরত বাংলা ভাষাভাষি জনগোষ্ঠী যারা ইংরেজি ভাষায় লেখাপড়া করেছেন তাদের জন্যও অতি সহজে কোরআন শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছে আল-কোরআন : ডিজিটাল ওয়েবসাইট ও এর ডিভিডি। আমরা ৬৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্প চালু করেছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন প্রকৃত মুসলমান। তিনি তাঁর সাড়ে তিন বছরের সরকারের সময় ইসলামের প্রচার ও প্রসারে অনেক অবদান রেখেছিলেন। জাতির পিতা ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা ও মাদ্রাসা বোর্ড গঠন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু আইন করে রমনার রেসকোর্স ময়দানে ঘোড় দৌড় ও মদ, জুয়া নিষিদ্ধ করেছিলেন। তিনি বলেন, আপনারা পবিত্র হজ্বব্রত পালন করার উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাচ্ছেন। আপনারা জেনে খুশি হবেন যে আমরা সরকার গঠন করার পর ২০০৯, ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালে উন্নত হজ্ব ব্যবস্থাপনায় সৌদি হজ্ব মন্ত্রণালয় বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ‘শ্রেষ্ঠ’ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সৌদি সরকার পবিত্র কাবা শরীফের সংস্কার কাজ করার জন্য বাংলাদেশের নির্ধারিত কোটা থেকে হজ্বে যাওয়ার সুযোগ শতকরা ২০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সব দেশের ক্ষেত্রে করা হয়েছে। এ কারণে এবার হজ্ব যাত্রীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। গত পাঁচ বছরে যারা হজ্ব করেছেন তারা চলতি বছর হজ্বে যেতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জেলায় একটি করে মসজিদকে আমরা উন্নতমানের মসজিদ হিসাবে গড়ে তুলবো। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে উপজেলা ভিত্তিক মসজিদ হবে। সব চেয়ে সুন্দর ও উন্নতমানের মসজিদ আমরা তৈরি করব। অথবা যে মসজিদ রয়েছে, তাকে উন্নতমানের মসজিদ করব। সৌদি রাষ্ট্রদূতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ইসলাম যে সত্যিকারের শান্তির ধর্ম-তার প্রচার ও প্রসারে আমরা পদক্ষেপ নেব। আমি সৌদি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে বলতে চাই যদি সৌদি সরকার মসজিদ উন্নয়নে আমাদের সহায়তা করে, তাহলে কাজটা আরো ভালো হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের সময় সৌদি রাষ্ট্রদূতকে সম্মতি সূচক মাথা নাড়তে দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সংস্কারের জন্য সৌদি সরকারের আর্থিক সহায়তার কথা স্মরণ করে সৌদি বাদশাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল স্বাগত বক্তব্য রাখেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ক্যাম্পে ঘুরে ঘুরে হজ্ব যাত্রীদের কথাবার্তা বলে কুশল বিনিময় করেন।