ভারপ্রাপ্ত আইজির বক্তব্য অসত্য ও বিভ্রান্তিকর

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫৩
৫ মে শাপলা চত্বরে মাত্র ৬ জন হেফাজত কর্মী নিহত হয়েছিলেন উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত মহাপুলিশ পরিদর্শকের বক্তব্যকে অসত্য, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতারা। গতকাল শুক্রবার এক যুক্তবিবৃতিতে পুলিশ প্রধানের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে হেফাজত নেতারা অবিলম্বে ৫ মে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান। একই সাথে সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে ‘মিথ্যাচার’ থেকে বিরত থাকতে তারা প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী, এমপি এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত আইজি হেফাজতের নেতাকর্মীরা কোরআন শরিফ ও ব্যাংকের বুথে আগুন দেয় বলে যে দাবি করেন হেফাজত নেতারা তার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, বায়তুল মোকাররম মসজিদের পাশে আওয়ামী লীগ তাদের সন্ত্রাসী ও ক্যাডার বাহিনী দিয়ে কোরআন শরিফ পুড়িয়েছে, মসজিদে আগুন দিয়েছে। বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় তার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে এদের গ্রেপ্তার করা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার না করার অর্থ হলো হেফাজতকর্মীরা নয়, সরকার দলীয় সন্ত্রাসী ও ক্যাডাররাই ধরা পড়বেন বলে কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা বলেন, শত শত আলেমের লাশ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দাফন করা হয়েছে। হেফাজত নেতারা বলেন, প্রায় দশ হাজারেরও বেশি আলেম-হাফেজ ও তৌহিদি জনতা ৫ মে রাতে যৌথ বাহিনীর আক্রমণে গুরুতর আহত হয়েছিলেন। হেফাজত নেতারা আরো বলেন, ভারপ্রাপ্ত আইজি শহীদুল হক বলেছেন, হেফাজতের নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ নাকি হেফাজতের হাতে নেই। আমাদের কথা হচ্ছে, যদি হেফাজতের হাতে হেফাজতের নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণই না থাকে তাহলে দেশব্যাপী নিরীহ আলেম-ওলামাদের ওপর মামলা ও হয়রানি চলছে কেন। হেফাজত ইসলামের নেতারা বলেন, ৫ মে’র বর্বরোচিত ঘটনার পর আমির আল্লামা আহমদ শফীর নির্দেশে চরম ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছি। হেফাজতের ১৩ দফা নিতান্তই ঈমানি দাবি। ক্ষমতার মোহ আমাদের নেই। বিবৃতিদাতারা হলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী, নায়েবে আমির আল্লামা শামসুল আলম, আল্লামা শাহ আহমদুল্লাহ আশরাফ, আল্লামা শায়েখ আবদুল মোমেন খলিফায়ে মাদানী, আল্লামা নূর হোসেন কাছেমী, আল্লামা মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী, আল্লামা আবদুল মালেক হালিম, আল্লামা আবদুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর) আল্লামা হাফেজ আনোয়ার শাহ, আল্লামা আশরাফ আলী বিজয়পুরী প্রমুখ।