দুর্যোগ মোকাবিলায় চাই সমন্বিত পদক্ষেপ

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৩০
প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিশ্বব্যাপী ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ বাড়লেও বাংলাদেশের ক্ষতির পরিমাণ কমছে। এর বড় কারণ দুর্যোগের ক্ষতি মোকাবেলায় জনগণের সক্ষমতা বেড়েছে। তবে ক্ষয়-ক্ষতি রোধে সরকারের ব্যয়ের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়েনি। ফলে দুর্যোগের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব থেকে ক্ষতিগ্রস্তরা রক্ষা পাচ্ছেন না। ইউএন এস্কেপ এর ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক সঙ্কট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন উপস্থাপন উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর ব্র্যাকের ইন সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এক অনুষ্ঠান আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সিপিডির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাবেক অর্থমন্ত্রী ড. এম সাইদুজ্জামান, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান সাবের হোসেন চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক, সিপিডি’র ডিসটিংগুইশড ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, অর্থনীতিবিদ ড. এম আসাদুজ্জামান এবং সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমানসহ আরও অনেকে। প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে ইউএন এস্কেপ-এর দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক আঞ্চলিক পরামর্শক ড. সঞ্জয় কুমার শ্রিভাস্তাভা বলেন, ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সাইক্লোনে ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৭ সালের সাইক্লোনে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। আর ২০০৯ সালে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ০.২৭ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাত্ দেশটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছে। যেখানে বিশ্বব্যাপী ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে সেখানে বাংলাদেশের ক্ষতি কমা এ দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষণ। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতির পর অবকাঠামো উন্নয়ন ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারছে না। ড. রেহমান সোবহান বলেন, উন্নত দেশগুলোর অতিরিক্ত কার্বন নির্গমন বাংলাদেশের দুর্যোগের একটি বড় কারণ। তাই এ দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ নিয়ে বাংলাদেশের দুর্যোগ মোকাবেলায় কার্যকরী ও সমন্বিত পদক্ষেপ রাখতে হবে। গ্রাম পর্যায়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। আর এ জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছাও জরুরি। রেহমান সোবহান বলেন, বাংলাদেশের জনগণের একটি বড় অংশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার। অথচ এ ব্যাপারে কাজ করা ও প্রতিশ্রুতি দেয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা খুব একটা দেখা যায় না। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দুর্ঘটনার ফলে উত্পাদন, কর্মসংস্থান এবং জিডিপি’র উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দুর্ঘটনা রোধ ও ক্ষয়-ক্ষতি কমাতে সরকারকে বিভিন্ন পদক্ষেপ চিহ্নিত করে এগিয়ে যেতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের ব্যয় করার সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। ড. ওসমান ফারুক বলেন, বাংলাদেশে সরকারের চেয়েও সাধারণ জনগণ দুর্যোগ মোকাবেলায় বেশি সক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছে। এদিকে সুশাসনের অভাব ও ফান্ডের অভাবে সরকার দুর্যোগের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বড় অবদান রাখতে পারে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিতে সরকারের ব্যয় বাড়াতে সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।