‘রেলগাড়ি ঝমাঝম, পা পিছলে আলুর দম—-।’ এখনো রেলগাড়ি দেখলেই নানা বয়সীরা আপনা-আপনি আওড়ে চলে এমন অনেক ছড়া। সময়ের বিবর্তনে কয়লা চালিত স্টিম ইঞ্জিনের জায়গা দখল করেছে ডিজেল ইঞ্জিন। সংযোজিত হয়েছে অত্যাধুনিক কমিউটার ও ডেমু ট্রেন। তারপরও মানুষের মনে আছে ‘কুউ-উ-উ’ করে তীব্র হুইসেল আর কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি পাকিয়ে হিস হিস শব্দে চলা কয়লার ইঞ্জিনের কথা। রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯০১ সালে ইংল্যান্ডের ভলক্যান ফাউন্ড্রি কোম্পানি লিমিটেড এই ইঞ্জিনটি তৈরি করে। ১শ’ হর্স পাওয়ার শক্তিসম্পন্ন ইঞ্জিনটি চওড়া ২ ফুট ৬ ইঞ্চি। এই ন্যারেগেজ স্টিম ইঞ্জিনের ওজন ১২ টন এবং ৬ চাকাবিশিষ্ট। এতে অর্ধগ্যালন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন তেল ট্যাঙ্ক ও অর্ধটন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লার ব্যাঙ্কার ছিল। ডিজেল ইঞ্জিন আসার আগে ন্যারোগেজ, মিটারগেজ ও ব্রডগেজসহ ৩ ধরনের স্টিম ইঞ্জিন চালু ছিল। স্বাধীনতার কয়েক বছর পর শত বছরের পুরোনো স্টিম ইঞ্জিন তুলে দেয় রেলওয়ে। ১৯৭২ সাল পর্যন্ত রূপসা-বাগেরহাট সেকশনে স্টিম ইঞ্জিন চলাচল করতো।
ইতিহাসের অংশ হয়ে সেই স্টিম ইঞ্জিন এখন শোভা পাচ্ছে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) অফিসের সামনে সবুজ চত্বরে। কারখানা কর্তৃপক্ষ এটাকে সংরক্ষণ করে রেখেছে। রেল কারখানার প্রধান ফটকের সামনে দিয়ে যেতে গেলেই পথিকের কানে আজও বাজে মাইকেল মধুসূদন দত্তের সেই বিখ্যাত কবিতার পংক্তি: ‘দাঁড়াও পথিক বর, জন্ম যদি তব বঙ্গে ? তিষ্ঠ ক্ষণকাল’। উত্সুক পথিকও কৌতূহল নিয়ে বার বার ফিরে তাকায় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা সেই প্রাচীন স্টিম ইঞ্জিনের পানে।
