ফাইনালে অতীতের তিক্ত স্মৃতি

আপডেট : ১৬ মে ২০১৯, ২১:৪৬

সিরিজ          সাল     প্রতিপক্ষ   ফলাফল        ভেন্যু

ত্রিদেশীয় সিরিজ    ২০০৯   শ্রীলঙ্কা    ২ উইকেটে হার   মিরপুর

এশিয়া কাপ          ২০১২       পাকিস্তান       ২ রানে হার মিরপুর

এশিয়া কাপ টি২০   ২০১৬   ভারত    ৮ উইকেটে হার   মিরপুর

ত্রিদেশীয় সিরিজ    ২০১৮   শ্রীলঙ্কা    ৭৯ রানে হার     মিরপুর

নিদাহাস কাপ টি২০  ২০১৮   ভারত    ৪ উইকেটে হার   প্রেমাদাসা

এশিয়া কাপ       ২০১৮   ভারত    ৩ উইকেটে হার   দুবাই

 

স্পোর্টস রিপোর্টার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশের পদচারণা শুরু ১৯৮৬ সালে। ওয়ানডে স্ট্যাটাস অবশ্য এসেছিল ১৯৯৭ সালে। এই একদিবসী ক্রিকেটেই এখন বিশ্ব ক্রিকেটের প্রতিষ্ঠিত শক্তি বাংলাদেশ। অন্য যে কোনো ফরম্যাটের ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সাফল্য অনেক বেশি। কিন্তু সেই সাফল্যের মোড়কে রয়েছে কিছু অপূর্ণতা। বহুজাতিক কোনো ট্রফি এখনো জেতা হয়নি বাংলাদেশের। একটা ট্রফির হাহাকার রয়েছে গোটা দেশ জুড়ে। ধরতে ধরতে ছয়বার ফসকে গেছে ট্রফি। ওয়ানডেতে চারবার ও টি-২০ তে দুই বার বহুজাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনাল হারের তিক্ত স্মৃতি সঙ্গী হয়েছে বাংলাদেশের। ছয়টি ফাইনালের হারের বেদনা বুকে নিয়েই আজ আবারও ট্রফি জয়ের নেশায় মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল। ডাবলিনে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে খেলবে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। এটি হবে বাংলাদেশের সপ্তম ফাইনাল। অধরা ট্রফির সন্ধান এবার মিলবে কি না বলা কঠিন। তবে ত্রিদেশীয় সিরিজের সামগ্রিক আবহ বলছে, উইন্ডিজের বিপক্ষে আজকের ফাইনালে বাংলাদেশই ফেভারিট।  অতীতের ছয় ফাইনালের সবকটিতেই বাংলাদেশ হেরেছে এশিয়ান প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। যার মধ্যে হোম ভেন্যু মিরপুরেই চারবার হেরেছে বাংলাদেশ।

 

n          ২০০৯, ১৬ জানুয়ারি

      নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার বহুজাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। মোহাম্মদ আশরাফুলের নেতৃত্বে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ১৫২ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। ৬ রানে লঙ্কানদের পাঁচ উইকেট ফেলে দেওয়ার পরও শেষ রক্ষা হয়নি। সাঙ্গাকারার প্রতিরোধের পর শেষ দিকে মুরালিধরন ব্যাট হাতে রুবেলকে কচুকাটা করায় ১১ বল আগে দুই উইকেটের জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ট্রফি জিতে শ্রীলঙ্কা।

n        ২০১২, ২২ মার্চ

      ঘরের মাঠে মুশফিকের নেতৃত্বে ভারত, শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে ২৩৬ রানে আটকে রেখেছিলেন বোলাররা। ব্যাটিংয়ে তামিম-সাকিবের হাফ সেঞ্চুরির পরও অনভিজ্ঞতার কারণে পেরে উঠেনি বাংলাদেশ। ২ রানের হূদয়ভাঙা হারের কষ্ট পায় বাংলাদেশ।

n        ২০১৬, ৬ মার্চ

      টি-২০ ফরম্যাটের এশিয়া কাপে সবার ধারণাকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ। ফাইনালে শক্তিশালী ভারতকে টলাতে পারেনি মাশরাফির দল। মিরপুরে আট উইকেটে ম্যাচ হেরেছিল বাংলাদেশ।

 

n        ২০১৮, ২৭ জানুয়ারি

      দেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফেভারিট বাংলাদেশ প্রত্যাশিতভাবেই ফাইনালে আসে। বোলাররা শ্রীলঙ্কাকে ২২১ আটকে দিয়েছিলেন। কিন্তু ফিল্ডিংয়ে সাকিব ইনজুরিতে পড়ার পর ভড়কে যায় গোটা দল। ১৪২ রানে অলআউট হয়ে আরেকবার ট্রফি হারানোর বেদনায় পুড়ে বাংলাদেশ।

n        ২০১৮, ১৮ মার্চ

      কলম্বোয় নিদাহাস কাপ টি-২০’র ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার উত্সবকে মাটি করে দিয়ে। ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই হয়েছিল জমজমাট। কিন্তু প্রেমাদাসায় ম্যাচের শেষ দিকে দিনেশ কার্তিকের অবিশ্বাস্য বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে হেরে যায় বাংলাদেশ। সৌম্যর করা শেষ বলে ছক্কা মেরে ভারতকে চ্যাম্পিয়ন করেন কার্তিক।

n        ২০১৮, ২৮ সেপ্টেম্বর

      আরব আমিরাতের মুরুর বুকে এশিয়া কাপে চোট জর্জর বাংলাদেশ খেলেছিল ষষ্ঠ ফাইনাল। সাকিব-তামিমকে ছাড়া দলটা লিটন দাসের সেঞ্চুরির পরও ২২২ রানের বেশি করতে পারেনি। এই স্বল্প পুঁজিতেই ভারতকে বেঁধে ফেলেছিল বাংলাদেশ। এযাত্রা ভাগ্য বিড়ম্বিত টাইগারদের। দুবাইয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়া কেদার যাদবের ব্যাটে শেষ ওভারে তিন উইকেটে ম্যাচ জিতে যায় ভারত।