যমুনায় বিলীন ২৩ প্রাইমারি স্কুল

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫০
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলের শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উপজেলার ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিগত দিনে যমুনা নদীতে বিলীন হলে দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয় পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ না নেয়া এর মূল কারণ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। এসব ভাঙ্গন কবলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়া-লেখা চলছে গাছতলা কিংবা অন্যের বাড়ির বারান্দায়। ফলে চরাঞ্চলের হাজার হাজার কচি মুখ শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়ে দিন দিন শিশুশ্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসলামপুর উপজেলার যমুনার তীরবর্তী কুলকান্দি, বেলগাছা, চিনাডুলি, সাপধরী ও নেয়ারপাড়া ইউনিয়নের ৫০টি গ্রাম এবং ব্রহ্মপুত্র পাড়ের ২০ গ্রামের প্রায় ৩৫ হাজার শিশুর ভবিষ্যত্ দিন দিন অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। নদী ভাঙ্গনে ভিটেমাটি হারা বিভিন্ন স্থানে আশ্রিত ও চরাঞ্চলের ছেলে শিশুরা কাকডাকা ভোরে বাবার সাথে যায় মাছ কিংবা দিনমজুরি করতে। আর মেয়ে শিশুরা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজে অথবা কেউ যায় ছাগল চড়াতে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, শিশু রহিম (৯), মালেকা (১২), নূর জাহান (৯) ও যমুনার চরের ওবায়দুল্লাহ (১০) ও কফিল (১০) যখন বইখাতা হাতে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, তখন তারা শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়ছে। মালেকা জানায়, ‘অভাবের সংসারে স্কুলে না গিয়ে ছাগল চড়াতে যাই। স্কুল যমুনা নদী ভাঙ্গায় এখন স্কুলে যাই না। কফিল জানায়, ‘অন্যের বাড়িতে কাজ করি তাই গরুর ঘাসের জন্য ক্ষেতে যাইতাছি। নদী ভাঙ্গনের কারণে ইসলামপুর উপজেলার শিক্ষার হার খুব নগণ্য। বিগত দিনে এ উপজেলার ১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একাধিকবার ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। এ বছরও চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হয়েছে। এ ৪টি হচ্ছে সিন্দুরতলী, হরিণধরা, চিনাডুলী ও চরশিশুয়া, এবং ৪নং চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় । বর্তমানে কুলকান্দী, বেলগাছা ও ডেবরাইপ্যাচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হুমকির মুখে রয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত উপজেলার ২৩টি বিদ্যালয় নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নদীতে বিলীন হওয়া ২৩টি বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য গত ১৮ ফেব্রুয়ারি/১৩ স্থানীয় এমপির ডিও লেটার সম্বলিত ১৯টি বিদ্যালয়ের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর কোন নির্দেশনা আসেনি বলে জানান। দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ না নেয়ায় শিক্ষাদানে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে।