গণতন্ত্র বহাল রাখতে ভোটের ব্যবস্থার বিকল্প নেই

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫০
জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, আমাদের প্রত্যাশা দেশে একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যদিও জাতীয় রাজনীতিতে ঝগড়া-ফ্যাসাদ রয়েছে তারপরও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনে ভোটের ব্যবস্থার কোন বিকল্প নেই। তিনি গতকাল শনিবার পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলার বিভিন্ন সভা-সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরও বলেন, আল্লাহ তায়ালা ঝগড়া-ফ্যাসাদ পছন্দ করেন না। তারপরও দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দেশের রাজনীতিতে অস্থিরতা-অনিশ্চয়তা চলে আসছে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পরাধীন আমলের এ রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। তাই জাতীয় পার্টি ভিন্ন ধরনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। আমরা জাতীয় পার্টি মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য কাজ করি। স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিকদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য উন্নয়ন প্রয়োজন। আমাদের এমন রাজনীতি করা উচিত যার দ্বারা বর্তমান প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে। আগামী দিনে এরাই দেশ পরিচালনার নেতৃত্ব দেবে। আজ নোয়াখালীর ছাগলনাইয়া ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া থেকে দেশের নেতৃত্ব দেয়া হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের বিশেষতঃ পিরোজপুর, ভাণ্ডারিয়া, জিয়ানগর, কাউখালীর ছেলে-মেয়েরা যাতে ভবিষ্যত্ নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হয় তার জন্য এ অঞ্চলে উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। আজ থেকে ৩০ বছর আগে আমি যখন দক্ষিণ অঞ্চলে আসা-যাওয়া করতাম তখন এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল নৌ-পথ নির্ভর। এরশাদ সরকার ও ৯৬ তে শেখ হাসিনার সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করার সুযোগে পিরোজপুরের মানুষ আজ সড়ক পথে ঢাকা, খুলনা, মংলা, বাগেরহাট, বরিশাল যেতে সক্ষম হচ্ছে। আনোয়ার হোসেন বলেন, এই ধারা বজায় রাখতে হবে, এলাকার উন্নয়নের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। শুধু যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন সুবিধা থাকলেই হবে না এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে মানুষের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন সাধন আবশ্যক। আনোয়ার হোসেন বলেন, যদিও নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা-অস্থিরতা বিদ্যমান তারপরও আমাদের বিশ্বাস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে আমরা জাতীয় পার্টি সাইকেল মার্কা নিয়ে ভোট চাইতে আসব। সাইকেল হচ্ছে গ্রামীণ জনপদের জীবনমানের উন্নয়নের পরিচায়ক। গ্রামের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য অতীতের মত আবারও আপনাদের সামনে সাইকেল প্রতীক নিয়ে উপস্থিত হব। আমাদের আশা, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে আপনারা আমাদের সমর্থন দেবেন। তিনি শনিবার দিনভর জিয়ানগর উপজেলার টগড়া ফেরী ঘাট, পাড়েরহাট আশ্রায়ণ প্রকল্প এলাকা, পাড়েরহাট বন্দর, বৌডুবি বাজার, রামচন্দ্রপুর, বালিপাড়া বাজার, বাগারহাট ও কলারন এবং উপজেলা সদরে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করেন। জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু দুপুরে পাড়েরহাট বন্দর জাতীয় পার্টির (জেপি) কার্যালয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। এখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জেপি নেতা রুহুল আমীন, হারুন অর রশীদ পান্না, শাহজাহান মৃধা, বাবুল হাওলাদার, কালাম তালুকদার প্রমুখ। এর আগে উমিদপুরে গ্রামীণ নারী-পুরুষ মো. রাসেল হাওলাদার ও রানী বেগমের নেতৃত্বে শুভেচ্ছা জানান। এরপর আনোয়ার হোসেন পাড়েরহাট ইউনিয়নের বৌডুবি বাজারে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। এখানে কাওসার আহমেদ দুলাল, দেলোয়ার হোসেন মাতুব্বর, আয়শা আক্তার পপি, শেখ রাসেল, গিয়াস উদ্দীন আরিফ, মেহেদী হাসান মান্নাসহ স্থানীয় নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এরপর তিনি বৌডুবি এমদাদিয়া নূরানী তালিমুল কোরআন মাদ্রাসা পরিদর্শনে গেলে পরিচালক মাওলানা আমিরুল ইসলাম তাকে স্বাগত জানান। এরপরে টেংরাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আসমা আক্তার মমতাজের নেতৃত্বে স্থানীয় নারী সমাজ তাকে শুভেচ্ছা জানান। এরপরে রেখাখালী, রামচন্দ্রপুর পঞ্চগ্রাম সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পর্ত্তাশী বাজারে গণসংযোগ করেন। রামচন্দ্রপুরে চিত্তরঞ্জন হালদার, দেবাশীষ হালদার, ক্ষিতীশচন্দ্র হালদার, সমীর হালদার প্রমুখের উপস্থিতিতে এলাকার নারী-পুরুষ, ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে আনোয়ার হোসেন বক্তব্য রাখেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পর্ত্তাশী ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুল কবির তালুকদার স্বপন। বালিপাড়ার চণ্ডীপুর-বাগারহাটে ইউনিয়ন জেপি অফিসে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন। এখানে বক্তৃতা করেন স্থানীয় জেপি নেতা ফোরকান খান ও মহারাজ গাজী। এখানে উপস্থিত ছিলেন জেপি নেতা শহীদুল ইসলাম দোদুল, মিজানুর রহমান, জাহানারা বেগম, আমেনা বেগম প্রমুখ। এরপর তিনি কলারন জোমাদ্দার হাটে গণসংযোগ করেন। এরপর বালিপাড়া বাজারে জেপি অফিসে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শামসুর রহমান খান, সাবেক ইউপি সদস্য সফিন কবির খান, প্রাক্তন সৈনিক নেতা নূরুজ্জামান খান, জালাল মৃধা প্রমুখের উপস্থিতিতে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে আনোয়ার হোসেন বক্তব্য রাখেন। সন্ধ্যার পর জিয়ানগর সদরে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সাথে বৈঠক করেন। এ বৈঠককালে তিনি এ উপজেলায় দলের সাংগঠনিক তত্পরতা বৃদ্ধির উপরে জোর দেন। এরপর বেসরকারি সংগঠন দুঃস্থ কল্যাণ সংস্থার নেত্রীদের সাথে সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা আনোয়ার হোসেন মঞ্জু মত বিনিময় ও দিক নির্দেশনামূলক আলোচনা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্থার উপদেষ্টা এমএ রব্বানী ফিরোজ, কর্মকর্তা কাজী আতাহার আলী, নেত্রী শারমীন হোসেন প্রমুখ। রাতে আনোয়ার হোসেন জিয়ানগর প্রেসক্লাবে যান এবং ক্লাব সভাপতি এইচ এম ফারুক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আজাদ হোসেন বাচ্চুসহ সদস্যরা তাঁকে স্বাগত জানান। এর আগে তিনি ইন্দুরকানী বাজারে হরিসভা পরিদর্শন করেন। এখানে অমল কৃষ্ণ সাহার নেতৃত্বে স্থানীয় হিন্দু সমাজ তাঁকে স্বাগত জানান। জিয়ানগর উপজেলার বিভিন্ন কর্মসূচিতে সফর সঙ্গী ছিলেন জেপি’র কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন রেনু, কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক আব্দুস সালাম বাহাদুর, কেন্দ্রীয় নেতা ও ভান্ডারিয়া সদর চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার জোমাদ্দার, পিরোজপুর জেলা জেপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাব তালুকদার, গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান টিপু, ইকড়ীর ইউপি চেয়ারম্যান তানভীর হোসেন তালুকদার, যুব সংহতির কেন্দ্রীয় নেতা নূরুজ্জামান হোসেন, কবির খান, রমিজুল ইসলাম সোহাগ প্রমুখ। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, রাজনীতিতে যদি সততা বিশ্বাস ও লক্ষ্য না থাকে তাহলে উন্নয়ন সম্ভব নয়। জাতীয় পার্টি জেপি একটি সুশৃংখল রাজনীতি করতে চায়। বাংলাদেশে যদি কোন রাজনৈতিক দল নিজধর্মে সুশৃংখল উন্নয়নমুখী এবং স্বাধীনতা পরবর্তী যে রাজনীতি হওয়া উচিত তা করে থাকে তাহলে আমরাই সে রাজনীতি করে আসছি। আদর্শের কারণেই জাতীয় পার্টি জেপি টিকে আছে। নিয়ম ও কানুনের মধ্যে থেকে রাজনীতি করতে হবে । তা না হলে অন্য দলের সাথে জাতীয় পার্টি জেপির পার্থক্য কোথায়? শুক্রবার রাতে ভাণ্ডারিয়া বাসস্ট্যান্ড কলেমা চত্বরে উপজেলা জাতীয় ছাত্রসমাজের এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ছাত্রসমাজ একটি আদর্শ দল। যে দলে কোন আদর্শ থাকে না তা দিয়ে কোন রাজনীতি করা যায় না । রাজনীতিতে আদর্শ ও লক্ষ্য থাকতে হবে এবং আদর্শ মানুষ নিয়ে দল করতে হবে। তিনি বলেন, লেখাপড়া করে ভালো ছাত্র হয়ে ভালো লোকের সাথে রাজনীতি করতে হবে। দক্ষ রাজনীতি করতে হলে শিক্ষার প্রয়োজন আর তা না হলে উন্নয়ন সম্ভব নয়। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, উপজেলা ছাত্রসমাজের সভাপতি মো. মোস্তফা সিকদার, সম্পাদক মামুনুর রশিদ সরদার, ইউনিয়ন ছাত্রসমাজ নেতা রিপন মির্জা, মতিউর রহমান বুলবুল, রুহুল আহম্মেদ, আহম্মেদ শাকিল ও মিলন হাওলাদার। জাতীয় পার্টি (জেপি)তে যোগদান শুক্রবার রাতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর বাসভবনে পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলার বিভিন্ন দলের বহু নেতাকর্মী জাতীয় পার্টি জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সাথে সাক্ষাত্ করে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পার্টি জেপিতে যোগদান করেন। এদের মধ্যে রয়েছেন জিয়ানগর সদর ইউপি চেয়ারম্যান আছাদুল কবির স্বপন, মোবারেক আলী সিকদার, আনিচুর রহমান আনিচ, ফারুক মাতুব্বর, মতি হাওলাদার, শংকর বৈরাগী, শুধাংশু মিস্ত্রী, জামাল আকন, মন্টু জোমাদ্দার, কিসলু গাজী, মন্টু হাওলাদার, মিজানুর রহমান, হারুন অর রশিদ পান্না, মজনু হাং, জসিম মীর, আঃ আলীম স্বপন, আল আমীন শেখ, মুনান সিকদার, বাহারুন আলম, শাজাহান মৃধা, রাছেল হাং ও নোমান হাং। পরে তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন এবং দেশের বর্তমান রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এসময় যোগদানকারী নেতাকর্মীকে ধন্যবাদ জানিয়ে এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, জেপির কেন্দ্রীয় অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম বাহাদুর, ভাণ্ডারিয়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, ইকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান তানভির হোসেন বাবু, গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান টিপু, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, জেপি নেতা ইউসুফ আলী আকন, ভাণ্ডারিয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি কামাল উদ্দিন জোমাদ্দার, মনিরুল আহসান মনির সরদার, শওকত ইকবাল মিটুল মল্লিক, হুমাউন কবির বাদল সিকদার, শহিদুজ্জামান রাজু মল্লিক, কবির খান, মিঠু বিশ্বাস, গোলাম কবির নান্টু প্রমুখ।