লম্বা বিরতির পর আজ রবিবার থেকে আবার বিএনপির জনসভামুখী রাজনীতি শুরু হচ্ছে। এ নিয়ে এখন চাঙ্গা হয়ে উঠেছে বিএনপি ও তাদের শরিকদের রাজনীতি। মূলত আগামী ২৫ অক্টোবরের পর নির্দলীয় সরকারের দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলনের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে আজ মাঠে নামছেন জোট নেত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। আজ হতে পর্যায়ক্রমে আটটি জেলায় জনসভা করবেন তিনি। প্রথম জনসভা করবেন নরসিংদীতে। এই জনসভাকে কেন্দ্র করে যে যে জেলার ওপর দিয়ে তার গাড়ি বহর যাবে সেখানে আগাম নির্বাচনী প্রচারণার এক ধাপ সেরে ফেলবেন তিনি। জনসভাগুলোতে আগামী নির্বাচনের বড় মাত্রায় প্রচারণার টার্গেট নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতিগুলো বেগম জিয়া তাঁর জনসভায় তুলে ধরবেন। তুলে ধরবেন দলের ‘নতুন ধারার’ সরকার পরিকল্পনার রূপরেখাও। বেগম জিয়ার এ মাসে লন্ডনে যাওয়ার যে সম্ভাবনার কথা প্রচার হয়েছিল তাতে তিনি সায় দেননি। তার বদলে আন্দোলন ও নির্বাচনী প্রস্তুতিকে তিনি সমূহ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। লন্ডনে পাঠানো হচ্ছে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল। বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন আজ বৃটেনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন।
এদিকে জানা গেছে, এই ৮ জনসভাকে কেন্দ্র করে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ব্যাপক শো-ডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বেগম খালেদা জিয়ার মাঠ সফর উপলক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ব্রিফিং দেন দলের ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি বলেন, বেগম জিয়ার এই জনসভাগুলোর মাধ্যমে সারাদেশের মানুষ উদ্বুদ্ধ হবেন। তারা পরবর্তী চূড়ান্ত আন্দোলনে শামিল হবেন। তিনি বলেন, ১৮ দলীয় জোটের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখন আমাদের পেছনে যাওয়ার সুযোগ নেই। আসন্ন ঈদের পর আমরা সরকার পতনের আন্দোলনে যাবো।
এদিকে প্রথম জনসভায় রবিবার নরসিংদী যাওয়ার পথে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরকে নয়াপল্টন থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর পর্যন্ত স্বাগত জানাবে ঢাকা মহানগর বিএনপি। সমাবেশ উপলক্ষে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নির্মাণ করা হয়েছে শতাধিক তোরণ। মহাসড়কের দু’পাশে জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ নেতাকর্মীদের ছবি সংবলিত বর্ণিল ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। সর্বোচ্চ জনসমাগম নিশ্চিত করতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপি এবং ১৮ দলীয় জোটের নেতারা। আজ দুপুর ২টায় নরসিংদী সদর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে পৌর শিশু পার্কের বালুর মাঠে জেলা বিএনপির উদ্যোগে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন খালেদা জিয়া। প্রস্তুতি সম্পর্কে জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন জানান, এ সমাবেশ হবে নরসিংদীর ইতিহাসে স্মরণকালের বিশাল সমাবেশ। সমাবেশে ছয়টি উপজেলার নেতাকর্মী ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী যোগদান করবেন।
নরসিংদীর পর ১৫ সেপ্টেম্বর রবিবার রংপুর, ১৬ সেপ্টেম্বর সোমবার রাজশাহী, ২২ সেপ্টেম্বর রবিবার খুলনা, ২৯ সেপ্টেম্বর রবিবার বরিশাল এবং ৫ অক্টোবর শনিবার সিলেটে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন খালেদা জিয়া। এরপর বন্দর নগরী চট্টগ্রাম এবং রাজধানী ঢাকায় আরো দু’টি জনসভা করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এসব সমাবেশে ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারাও অংশ নেবেন।
নরসিংদী প্রতিনিধি: খালেদা জিয়ার সভাস্থল দেখার জন্যই প্রতিদিন হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সভাস্থলে ভিড় জমাচ্ছে। জেলা বিএনপি, জেলা যুবদল, জেলা ছাত্রদলসহ বিএনপির সকল অঙ্গসংগঠনই প্রস্তুতি সভা করে তৃণমূল থেকে নেতাকর্মীদেরকে সংগঠিত করে খালেদা জিয়ার জনসভায় যোগদানের নির্দেশ দিয়েছেন।
এ উপলক্ষে শনিবার বিকালে নরসিংদী জেলা বিএনপি স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে। জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এবং জনসভা সফল করার প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল্লাহ আল নোমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মনজুর এলাহী, জেলা জামায়াতের আমীর আ ফ ম আব্দুস সাত্তার, সেক্রেটারী শেখ আব্দুল মালেক, জেলা জাগপার আহ্বায়ক সৈয়দ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
