প্রতীকী নিলামে পাঁচ হাজার কোটি টাকার তরঙ্গ বিক্রি

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫২
তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) মোবাইল ফোন সেবা দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে আরো চারটি মোবাইল ফোন অপারেটর। গত বছর থেকে টেলিটক পরীক্ষামূলকভাবে এই সেবা দিয়ে আসছে। আজ রবিবার নিলামের মাধ্যমে উন্মুক্ত হবে থ্রিজি। এতে অংশ নেবে গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেল। গতকাল শনিবার হোটেল রূপসী বাংলায় প্রতীকী নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৩০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম (তরঙ্গ) কিনেছে চারটি অপারেটর। এর মধ্যে গ্রামীণফোন নিয়েছে ১৫ মেগাহার্টজ ও অপর তিনটি অপারেটর নিয়েছে ৫ মেগাহার্টজ করে। যার মূল্য ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তাই আজ নিলাম সফল হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বিটিআরসি। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস প্রতীকী নিলাম শেষে ইত্তেফাককে বলেন, এই মহড়ায় তিনি সন্তুষ্ট। আজ রবিবারও সফলভাবে নিলাম সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদী তিনি। বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই নিলাম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে নজির সৃষ্টি করতে চায় বিটিআরসি। গতকালের প্রতীকী নিলামে অংশ নেয়া চারটি অপারেটরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), বিটিআরসির কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কয়েকজন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। হোটেল রূপসী বাংলায় আজ সকাল সাড়ে ১০টায় এই নিলাম শুরু হবে। নিলাম অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, মন্ত্রণালয়ের সচিব, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি এবং মোবাইল ফোন অপারেটরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। নিলামে ২১০০ ব্যান্ডের এই স্পেকট্রামের প্রতি মেগাহার্টজের ফ্লোর প্রাইস (সর্বনিম্ন মূল্য) নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি মার্কিন ডলার। আবেদনপত্র ফি ৫ লাখ টাকা। লাইসেন্স নিতে ১০ কোটি টাকা, আর বার্ষিক লাইসেন্স ফি ৫ কোটি টাকা। নিলামে বিজয়ী প্রতিষ্ঠানকে মোট তরঙ্গ ফি’র ৬০ শতাংশ ৩০ কার্যদিবস ও ৪০ শতাংশ পরবর্তী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জমা দিতে হবে। ১৫ বছরের জন্য দেয়া হবে এই লাইসেন্স। পরবর্তী সময়ে প্রতি পাঁচ বছরের জন্য নবায়নের সুযোগ থাকবে। গাইডলাইন অনুযায়ী, থ্রিজি সার্ভিসের জন্য প্রত্যেক অপারেটরকে কমপক্ষে ৫ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম নিতে হবে। কেউ চাইলে বেশিও নিতে পারেন। ইতিমধ্যে টেলিটককে থ্রিজির জন্য ১০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তারা পরীক্ষামূলক থ্রিজি সেবা দিচ্ছে। এখনও বিটিআরসির হাতে রয়েছে ৪০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম। এক ডাকেও যদি অপারেটররা স্পেকট্রাম পান তাহলে প্রতি মেগাহার্টজের দাম হবে ২১ মিলিয়ন বা ২ কোটি ১০ লাখ ডলার। বাংলাদেশি টাকায় ১৬৮ কোটি (এক ডলার ৮০ টাকা হিসাবে) টাকা। ৪০ মেগাহার্টস স্পেকট্রামই যদি অপারেটররা নিয়ে নেয় তাহলে এই হিসাবে বিটিআরসি পাবে ৬ হাজার ৭২০ কোটি টাকা। আর প্রতীকী নিলামে তারা যে স্পেকট্রাম নিয়েছে তা নিলেও দাম ৫ হাজার ৪০ কোটি টাকা। এর সঙ্গে ৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। এই দামে টেলিটককেও দিতে হবে ভ্যাট ছাড়া এক হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। এর আগে গত ২৯ আগস্ট জামানত হিসাবে চারটি মোবাইল ফোন অপারেটর ৬২২ কোটি টাকা জমা দিয়েছে।