রবার্ট আর বেটি। থিয়েটার পাগল দুই নর-নারী। থিয়েটার করতে গিয়েই দুজনের পরিচয়। সেখান থেকেই ভাললাগা, অতঃপর পরিণয়। রবার্টের কাজ ছিল মূলত নাটক লেখা এবং নির্দেশনা দেয়া, পাশাপাশি অভিনয়ও অবশ্য করতেন। আর বেটির কাজ ছিল শুধুই অভিনয়। অল্পদিনেই এই দম্পতির ঘর আলো করে আসলো এরিক আর লিসা নামে দুই ছেলে-মেয়ে। বছর দুয়েক যেতে না যেতেই আবার গর্ভবতী হয়ে পড়লেন বেটি। এদিকে রবার্টের সঙ্গে মিলে মাত্রই তিনি তখন নিজেদের প্রডাকশন হাউজের কাজ শুরু করেছেন। কি আর করা, বাচ্চাকে পেটে নিয়েই অভিনয় কাজ চালিয়ে যেতে হলো বেটিকে। বেটি কি আর তখন জানতেন এই বাচ্চাই একদিন হবে হলিউডের অন্যতম বড় সুপারস্টার? ভুবনভোলানো হাসিতে জয় করবে লক্ষ কোটি দর্শকের মন? ১৯৬৭’র অক্টোবরের ২৪ তারিখ ভূমিষ্ঠ হলো রবার্ট দম্পতির তৃতীয় সন্তান। বাবার নামের শেষাংশ জুড়ে দিয়ে তার নাম রাখা হলো জুলিয়া রবার্টস।
ছোটবেলায় বাড়িতে যে সংস্কৃতি বান্ধব পরিবেশ ছিল তা খুব দ্রুূতই প্রভাব ফেললো জুলিয়ার মনে। বাবা-মায়ের পথ ধরে অভিনয়কেই পছন্দের তালিকায় শীর্ষে স্থান দিলেন তিনি। ফলে মাত্র ১৮ বছর বয়সেই টিভি সিরিয়াল ক্রাইম স্টোরি দিয়ে বড় মঞ্চে অভিষেক ঘটলো। এরপর স্যাটিসফেকশন ছবির মাধ্যমে বছর খানেকের মধ্যেই নাম লেখালেন বড় পর্দায়ও।
ঘরে অভিনয়ের প্রথম পাঠটা যে মোটেই বৃথা যায়নি তার প্রমাণ মিললো এর পরের বছরেই। ’৮৯ এর শুরুর দিকে মুক্তি পাওয়া ডায়বেটিক আক্রান্ত তরুণীর ভূমিকায় অভিনয় করলেন স্টিল ম্যাগনোলিয়াস ছবিতে। যা তাকে এনে দেয় প্রথম অস্কার মনোনয়ন এবং গোল্ডেন গ্লে¬াব পুরস্কার। এরপরের বছর মুক্তি পেল জুলিয়ার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া ছবি ‘প্রীটি ওমেন’। উঠতি প্রতিভাবানের কাতার থেকে যা তাকে এক ঝটকায় টেনে নিলো হলিউডের শীর্ষ অভিনেত্রীদের কাতারে। রোমান্টিক কমেডি ধাঁচের এই ছবি বিশ্বব্যাপী আয় করলো প্রায় চার কোটি ৭০ লাখ ডলার। একই সঙ্গে রোমান্টিক ছবির নায়িকার কাতারে মেগ রায়ানদের টপকে শীর্ষে চলে এলেন জুলিয়া। রাতারাতি বেড়ে গেল তার পারিশ্রমিকও। তবে অজানা এক কারণে এরপর হঠাত্ করেই অভিনয়ের প্রতি মনোযোগ হারাতে শুরু করলেন তিনি। ছেড়ে দিলেন টম হ্যাঙ্কসের বিপরীতে স্লিপলেস ইন সিয়াটলের কেন্দ্রীয় চরিত্রটি। যে ছবিটি কিনা পরবর্তীতে সর্বকালের সেরা রোমান্টিক কমেডি ছবির সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান করে নেয়। পিপল ম্যাগাজিন তাকে নিয়ে তাদের কভার স্টোরি সাজাল ‘হোয়াট হ্যাপেন্ড টু জুলিয়া রবার্টস?’ দু’বছরের বিরতি ভেঙ্গে ’৯৩ জুলিয়া ফিরলেন ডেনজেল ওয়াশিংটনের বিপরীতে থ্রিলার দ্য পেলিকান ব্রিফ ছবির মাধ্যমে। এরপর একে একে অভিনয় করলেন আই লাভ ট্রাবল, সামথিং টু টক অ্যাবাউট, মাইকেল কলিন্স, স্টেপ মমের মতো দর্শক-সমালোচকপ্রিয় সব চলচ্চিত্রে।
ব্যক্তিগত জীবনে অবশ্য এ সময়টাতে খুব একটা সফল ছিলেন না এই ‘প্রীটি ওম্যান’। কান্ট্রি মিউজিশিয়ান লাইল লেভিটের সঙ্গে তার প্রথম বিয়েটা ভেঙ্গে যায় মাত্র দুবছরের মাথায়। তবে পর্দায় জুলিয়ার উপস্থিতি আর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে উত্তরোত্তর। ২০০০ সালে এরিন ব্রোকোভিচ ছবির মাধ্যমে পেয়ে যান বার বার পেতে পেতে হারিয়ে যাওয়া সেই বহুকাঙ্ক্ষিত অস্কার। পুরস্কারটি জুলিয়ার বাজারমূল্য বাড়িয়ে দেয় আরো কয়েক ধাপ। প্রীটি ওম্যানের জন্য মাত্র তিন লাখ ডলার পারিশ্রমিক পাওয়া জুলিয়া মোনা লিসা স্মাইল ছবির জন্য নেন আড়াই কোটি ডলার। যা কিনা তাকে পরিণত করে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত অভিনেত্রীতে। সামপ্রতিক কালে এই অভিনেত্রীর জনপ্রিয় ছবিগুলোর মধ্যে আছে ইট প্রে লাভ, ল্যারি ক্রাউন, মিরর মিরর প্রভৃতি। হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী জুলিয়া এখন তিন সন্তানসহ ড্যানিয়েল মডারের সঙ্গে ঘর করছেন।..................................
