মাহমুদা খাতুন (আল্পনা) ছোটবেলা থেকে কুটির শিল্পের নানা বিষয়ের প্রতি মনোযোগ ছিল তার এবং ছোটবেলা থেকে তার স্বপ্ন ছিল যে কুটির শিল্পের মাঝে নিজেকে গড়ে তোলা ও কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে যখন ঘর-সংসারে ঢুকে পড়েন তখন প্রথমে তার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পথে ছিল। কিন্তু কুটির শিল্পে নানা কাজ জানা মাহমুদা খাতুন তার স্বামীর কাছে তার কাজের ব্যাপারে সব কথা খুলে বলেন এবং স্বামীও তাকে কাজের ব্যাপারে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন এবং সেদিন থেকে তিনি তার কাজ শুরু করেন। ১৯৯৮ সালের কথা। প্রথমে তনি নিজে কাপড়ে নকশা করে সুই-সূতা দিয়ে নানা ডিজাইনের বেডকভার, কুশনকভার এসব শুরু করেন এবং এই কাজে তিনি দ্রুত সফল হতে থাকেন। একসময় তিনি কিছু মহিলা নিয়ে তার বাসায় মহিলাদের ট্রেনিং করিয়ে বিভিন্ন জিনিস সেই মহিলাদের হাতে বানিয়ে ঢাকা শহরে বিভিন্ন শোরুমে সাপ্লাই দিতে থাকেন। এছাড়া তার দ্বারা ট্রেইন্ড নারীরাও স্বাবলম্বী হতে থাকে। বর্তমানে তিনি জয়িতাতে নিজে একটি স্টল দিয়েছেন। সেখানে প্রায় ৫০ ধরনের ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিস এবং সংসারের সৌখিন জিনিস তিনি বিক্রি করছেন। তার স্টলে চোখ ধাঁধানো নানা জিনিসপত্র দেখলে মনে হয় না যে আমাদের দেশে খুব সাধারণ নারীদের হাতের এত নিখুঁত ও সৌখিন শিল্প তৈরি হচ্ছে। এযাবত্ ২০০ নারীকে তিনি হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়ে কুটির শিল্পের কাজের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করে তুলেছেন।
মাহমুদা খাতুন ৫০ ধরনের জিনিসপত্র তৈরি করেন, যেগুলো হাতে বানানো। তিনি দেশ-বিদেশে বিভিন্ন মেলায়ও অংশগ্রহণ করেছেন এবং তার কাজের সাফল্য হিসেবে কিছু পদক পেয়েছেন। অঙ্গনা শপিং কমপ্লেক্সে তিনি তার তৈরি পোশাক সাপ্লাই করছেন। ব্যক্তিজীবনে মাহমুদা খাতুন আল্পনার বাবা হাজী মাহবুব হোসেন মিয়া, মা হাসিনা, সাত ভাই-বোনের মাঝে বড় তিনি। ঝিনাইদহের মেয়ে মাহমুদা খাতুন আজ সফল ও জয়ী নারী। সংসার জীবনে সরকারি কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম, এক ছেলে ইঞ্জিনিয়ারিং আর এক মেয়ে রংপুর সরকারি মেডিক্যালে পড়ছে। কাজের ব্যাপারে তার স্বামী-সন্তান সবার সাহায্য খুব বেশি প্রথম জীবন থেকে। তাই তার কথা: একজন নারীকে সফল হতে হলে অবশ্যই সবার আগে তার ইচ্ছা ও পারিবারিক সহায়তা প্রয়োজন।
