কী করে এলো

ঝিঁঝিঁ পোকায় বিপত্তি!

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:৪৪
ড্যানিয়েল এমলিন জোনস। ৪০ বছর বয়সী এবং অক্সফোর্ডের শহরতলীতে থাকা এই উদ্ভিদ বিজ্ঞানীর অল্প-বিস্তর খ্যাতিও রয়েছে তার আশপাশের পরিমণ্ডলে। সেই সাথে আছে মজার আর নির্দোষ কিছু খেয়ালও। তবে এমনি এক খেয়ালের বশে নিজের বাড়ির পেছনের বাগানে হাজার খানেক ভিনদেশি ঝিঁ ঝিঁ পোকা ছেড়ে এখন উল্টো পুলিশের সতর্কবার্তা শুনতে হচ্ছে ড্যানিয়েলকে। যেখানে গ্রামের নিবিড় পরিবেশের মতো শহরের বুকে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ শুনলেই অনেকে নস্টালজিক হয়ে পড়েন সেখানে একই ধরনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নিজের বাগানে ঝিঁঝিঁ পোকা ছেড়ে উল্টো বিপত্তিতে পড়েছেন ড্যানিয়েল নামের এই ব্যক্তি। তার বিরূদ্ধে অভিযোগ, এলাকায় ঝিঁঝিঁ পোকা ছাড়বার মাধ্যমে তিনি যে শুধু প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্যই নষ্ট করেছেন তা-ই নয়, বরং একই সাথে ডেকে এনেছেন অজানা রোগবালাইয়ের আশঙ্কাও। আর এ কারণে যুক্তরাজ্যের থেমস ভ্যালি পুলিশ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড কান্ট্রিসাইড অ্যাক্টের আওতায় সতর্কবাণী পাঠিয়েছেন ড্যানিয়েলের বিরুদ্ধে। ড্যানিয়েল যে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ শুনতে ভালোবাসেন বলেই এমনটি করেছেন তা জানার পরও বিষয়টির সমাধান করতে অনুরোধ এসেছে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও। এদিকে পুলিশ ও বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এহেন আচরণে যার পর নাই ক্ষুদ্ধ ড্যানিয়েল এমলিন জোনস তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনার জন্য এ ধরনের পতঙ্গ সংরক্ষণে রাখার বিষয়টি সেই আদিম চীন ও জাপানি সংস্কৃতি থেকেই চলে আসছে। তবে প্রাণী অধিকারের প্রতি সচেতন বলেই আমি পোকাগুলোকে খাঁচায় আটকে না রেখে বাগানে মুক্ত করে দিয়েছি। এমনকি এদের কারণে কারও কোনো ক্ষতি হয়েছে বা হওয়ার সম্ভাবনা আছে এমনটাও আমি দেখিনি।’ এদিকে প্যাট্রিক গ্রে’র মতো অক্সফোর্ড সিটির সাবেক কাউন্সিলর ও প্রভাবশালীরা ড্যানিয়েলের এই ঝিঁঝিঁ পোকার ডাককে মনোমুগ্ধকর বলে স্বীকার করলেও এলাকাতে নতুন পতঙ্গের আগমন ঘটিয়ে ভারসাম্য নষ্ট করার প্রশ্নে আপস করতে রাজি নন।